রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে 'হাতে-পায়ে ধরে' টাটাদের ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একই আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। কিন্তু রবিবার সিঙ্গুরের সভায় টাটাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কার্যত চুপই রইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি!
ভোটমুখী রাজ্যে জমি আন্দোলনের আঁতুরঘর সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে মোদি শিল্পায়ন নিয়ে কী বার্তা দেন, তা নিয়ে জনমানসে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সিঙ্গুরের সেই হাজার একর জমির মধ্যে চাষযোগ্য নয়, এমন অংশে শিল্পস্থাপনের দাবি তুলেছে ‘সিঙ্গুর বন্ধ্যা জমি পুনর্ব্যবহার কমিটি’ও। শুভেন্দু, সুকান্তের মতো বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সুরে সুর মিলিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও চাইছিলেন যাতে সিঙ্গুর নিয়ে কোনও সদর্থক বার্তা দেন মোদি। প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে সে কথাও বলেছিলেন বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়। বলেছিলেন, "আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুর নিয়ে কোনও ইতিবাচক বক্তব্য শোনাবেন।" কিন্তু মোদির ভাষণে টাটার নামোচ্চারণ শোনা গেল না! মোদি শিল্পায়ন নিয়ে কথা তো বললেন, কিন্তু টাটাকে আবার সিঙ্গুরে ডেকে এনে শিল্পস্থাপনের আশ্বাস দিতে দেখা গেল না তাঁকে।
মোদির বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ রাজ্যেও শিল্প আসবে। সাধারণ মানুষ চাকরি পাবেন। কিন্তু তার আগে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা জরুরি। পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তা শিল্পায়ন সম্ভব নয় বলেও বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, "এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হলে তবেই বিনিয়োগ আসবে। কিন্তু এখানে মাফিয়াদের ছাড় দিয়ে রাখা হয়েছে। এখানে সব কিছুতে সিন্ডিকেট ট্যাক্স বসিয়ে রাখা হয়েছে। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স এবং মাফিয়াবাদকে বিজেপিই শেষ করবে। এটাই মোদীর গ্যারান্টি।"
কিন্তু নির্দিষ্ট করে সিঙ্গুরে শিল্পায়ন নিয়ে কিছু বলতে শোনা যায়নি মোদিকে। তা নিয়ে খানিক আশাহত স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এক নেতার কথায়, "আমরা ভেবেছিলাম, সিঙ্গুর নিয়ে নিশ্চয়ই কিছু বলবেন প্রধানমন্ত্রী। তার কারণ, সিঙ্গুরের বহু মানুষ তা-ই চাইছেন। আমরাও তাঁদের বলছি যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নিশ্চয়ই কিছু করবে। আমাদের এই মুখে এই কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী ভাষণের দিকে নজর রেখেছিলেন অনেকেই। প্রতিশ্রুতি শুনতে চাইছিলেন তাঁরা। কিন্তু সে সব তো কিছুই হল না। এবার আমরা তাঁদের কী জবাব দেব, সেটা বুঝতে পারছি না।"
আবার একই সঙ্গে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার এক নেতা বলছেন, "খানিক আশাহত তো বটেই। উনি টাটাকে ফেরানোর কথা বলে এখানে আমাদের জমি আরও পোক্ত হত ঠিকই। কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, উনি প্রধানমন্ত্রী। ওঁকে অনেক ভেবেচিন্তে কথা বলতে হয়। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে শিল্প হবেই। তা সাধারণ মানুষ জানেন। প্রধানমন্ত্রী যদি টাটার নাম নেন, এবং পরে যদি টাটা না আসতে চান, তা প্রধানমন্ত্রী এবং দলের ভাবমূর্তির জন্য ভালো হবে না। শিল্প তো হবেই। টাটা গোষ্ঠীর পরিবর্তে অনেক কোনও গোষ্ঠীও হতে পারে। মানুষের যাতে ভালো হয়, বিজেপি তা-ই করবে।"
