shono
Advertisement
Tarapith Deoghar Highway

এবার সড়কপথে জুড়ছে তারাপীঠ ও দেওঘর, লাভের আশায় বুক বাঁধছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা

রামপুরহাটের মাঝখণ্ড গ্রাম থেকে শুরু হয়ে ১১৪এ জাতীয় সড়ক ঝাড়খণ্ডের ভিতরে প্রবেশ করবে। এই রাস্তা সরাসরি দেওঘরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 12:04 PM May 27, 2026Updated: 01:04 PM May 27, 2026

তারাপীঠের মা তারা মন্দির এবং ঝাড়খণ্ডের বিখ্যাত শিবক্ষেত্র দেওঘরের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। বহুদিনের দাবি মেনে এবার নতুন জাতীয় সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিল প্রশাসন। রামপুরহাটে দুই রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাধ্যমে এই প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। নতুন রাস্তা তৈরি হলে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শক্তিপীঠ তারাপীঠ এবং ঝাড়খণ্ডের জনপ্রিয় তীর্থস্থান দেওঘরের মধ্যে যোগাযোগ অনেক সহজ ও দ্রুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই সড়ক চালু হলে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় প্রভাব পড়বে বলেও আশাবাদী প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষজন।

Advertisement

জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের মাঝখণ্ড গ্রাম থেকে শুরু হয়ে ১১৪এ জাতীয় সড়ক ঝাড়খণ্ডের ভিতরে প্রবেশ করবে। এই রাস্তা সরাসরি দেওঘরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। এই প্রকল্প নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, বনদপ্তরের আধিকারিক, ভূমি দপ্তরের আধিকারিক-সহ অন্যান্য দপ্তরের বিশিষ্ট আধিকারিক ও রামপুরহাট বিধানসভার বিধায়ক ধ্রুব সাহার প্রতিনিধি হিসেবে একমাত্র স্বরূপরতন সিনহা। এছাড়াও ঝাড়খণ্ড প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক অনলাইনের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। দুই রাজ্যের প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় রেখে কীভাবে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। জানা গিয়েছে, মোট প্রায় ১৫ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে বীরভূম জেলার অংশে প্রায় ৯ কিলোমিটার এবং ঝাড়খণ্ডের অংশে প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হবে। পুরো প্রকল্পে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। খুব শীঘ্রই জমি ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই এই রাস্তার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। কারণ সারা বছর দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী তারাপীঠ ও দেওঘরে আসেন। কিন্তু সরাসরি উন্নত সড়ক যোগাযোগ না থাকায় যাত্রীদের অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হত। বিশেষ করে উৎসবের সময় এবং শ্রাবণ মাসে ভিড়ের কারণে যাতায়াতে সমস্যার মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। নতুন রাস্তা তৈরি হলে দুই তীর্থক্ষেত্রের মধ্যে যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে যাবে। পাশাপাশি সময়ও অনেক কম লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এই জাতীয় সড়ক চালু হলে শুধু ধর্মীয় পর্যটন নয়, এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় পরিবর্তন আসবে। রাস্তার ধারে নতুন দোকান, হোটেল, লজ, পরিবহণ পরিষেবা সহ একাধিক ছোট ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহণ আরও সহজ হওয়ায় এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়াও এই নতুন রাস্তা চালু হলে রামপুরহাট শহরের যানজট অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে প্রশাসন। বর্তমানে দেওঘর ও ঝাড়খণ্ডমুখী বহু গাড়ি রামপুরহাট শহরের উপর দিয়ে যাতায়াত করে। নতুন বিকল্প রাস্তা তৈরি হলে শহরের উপর চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার দাবি থাকলেও আগের রাজ্য সরকারের সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে এলাকার মানুষ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে বর্তমানে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ডবল ইঞ্জিন সরকারের উদ্যোগেই এই প্রকল্প বাস্তব রূপ পেতে চলেছে বলে দাবি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement