সুরজিৎ দেব, ডায়মন্ড হারবার: গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীর সুরক্ষায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে চলেছে প্রশাসন। মেলায় হারিয়ে যাওয়া ও অসুস্থ হয়ে পড়া পুণ্যার্থীর পরিবারের সঙ্গে আরও দ্রুত যোগাযোগ করতে ব্যবহার করা হবে ডিএমআর অর্থাৎ ডিজিটাল মোবাইল রেডিও পদ্ধতি। হ্যাম রেডিওর হাত ধরে এই পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। শুধু নিখোঁজদের ফিরিয়ে দেওয়াই নয়, যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত ও গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেও এই ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কন্ট্রোলরুম নির্ভর না হয়েই সরাসরি দেশের যে কোনও প্রান্তে নিমেষে বার্তা ও এসএমএস পাঠানো সম্ভব হবে। এতদিন ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের হ্যাম অপারেটরেরা গঙ্গাসাগর মেলায় আ্যানালগ পদ্ধতি ব্যবহার করে হারিয়ে যাওয়া পুণ্যার্থী ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের তথ্য অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে দেশজুড়ে পৌঁছে দিতেন।
এর ফলে বার্তা আদান-প্রদানে বেশ সমস্যা হত। এমন কিছু গোপনীয় বার্তা যা ওই তরঙ্গদৈর্ঘ্যে থাকা যে কেউই শুনতে পেতেন। এজন্য তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রশাসনিক কাজেও ব্যাঘাত ঘটত। ডিএমআর পদ্ধতিতে বার্তা বিনিময় এখন গোপন থাকবে। এছাড়াও সরাসরি হ্যান্ড হেল্ড সেট থেকে শুধু বার্তাই নয়, এমনকী এসএমএসও গঙ্গাসাগর মেলা থেকে এই নতুন ডিজিটাল মোবাইল রেডিওর মাধ্যমে দেশের যে কোনও প্রান্তে দ্রুত পাঠানো সম্ভব হবে। রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাস জানান, মেলায় নতুন এই ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগে গঙ্গাসাগরে দিনরাত কাজ করে চলেছেন ক্লাবের সদস্য জয়ন্ত বৈদ্য, দিবস মন্ডলরা।
এবার কুম্ভমেলা না থাকায় গঙ্গাসাগর মেলায় রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থীর ভিড় হওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগের অ্যানালগ পদ্ধতিতে কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে বার্তা পাঠানোয় এবার বেশ সমস্যা হতে পারে। কারণ পুণ্যার্থীর ভিড় বাড়ায় কন্ট্রোলরুমের উপর চাপ থাকবে যথেষ্টই। তাছাড়া মেলাতে মাইকের শব্দ ও ভিড়ের মাঝে গাড়ীর নম্বর, হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির নাম, চেহারার খুঁটিনাটি বর্ণনা ইত্যাদি অ্যানালগ পদ্ধতিতে অপরপ্রান্তে শোনার সমস্যা হয়। ফলে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির সম্বন্ধে বার্তা আদান-প্রদানে ত্রুটি থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকত। সেক্ষেত্রে এবার এই নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তি বিশেষ সহায়ক হবে বলে আশা জেলা প্রশাসনের কর্তাদের।
