দিঘা ও বাঁকিপুট সমুদ্র উপকূল থেকে দুটি নতুন প্রজাতির খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা। যা অ্যানিলিডা পর্বের (ফাইলাম) অন্তর্গত দু'টি নতুন প্রজাতির সামুদ্রিক কীট। সদ্য সন্ধান পাওয়া এই দুই প্রজাতির প্রাণীকেই 'নেরিডিড ওয়ার্ম' বা 'পলিকেট' অর্থাৎ এক ধরনের সামুদ্রিক কেঁচো হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উত্তর দিকের অর্থাৎ ওড়িশা ও বাংলা লাগোয়া অংশ যে জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এবং এই অঞ্চলে যথাযথ অনুসন্ধান চালালে নতুন প্রজাতির বেশ কিছু প্রাণীর সন্ধান পাওয়া যাবে। এমনটাই অনেক দিন ধরেই দাবি করছে জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া।
মেক্সিকোর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মিলিতভাবে গবেষণা চালায় জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। আর তাতেই অ্যানিলিডা পর্বের দু'টি নতুন প্রজাতির প্রাণীর খোঁজ পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে। জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, 'ডেসক্রিপশন অফ টু নিউ নেরিডিডস ফ্রম ওয়েস্ট বেঙ্গল, ইন্ডিয়া, বে অফ বেঙ্গল' শীর্ষক রিপোর্টে এই দুই প্রাণীর বৈশিষ্ট্য ও বাসস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা হয়েছে। দু'টি প্রজাতির মধ্যে একটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে নামালিকাস্টিস সোলেনোটোনাথা। এই নামটি নেওয়া হয়েছে দু'টি গ্রিক শব্দ 'সোলেনোটোস' বা খাঁজকাটা এবং 'নাথা' বা চোয়াল থেকে। এই প্রজাতির প্রাণীর খাঁজকাটা চোয়াল থেকে অজস্র নালিকার মতো অংশ বেরিয়েছে।
জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-র পক্ষ থেকে বিজ্ঞানী অনিল মহাপাত্র ও জ্যোৎস্না প্রধান জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এই দুটি সামুদ্রিক কীটের সন্ধান পাওয়া যায়। চরম প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে এই কেঁচো। অন্য দিকে নেরিস ধৃতি নামের প্রজাতিটির নামকরণ হয়েছে জুওলজিক্যাল প্রথম মহিলা ডিরেক্টর ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। উপকূলীয় পরিবেশের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে নেরিডিডরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে পলিস্তরে অক্সিজেন চলাচলে এদের অবদান অনস্বীকার্য।
