shono
Advertisement

জিএসটি-র কোপে পড়ে ভোটের বাজারে বেজায় চটে ‘নির্বাচন’! ব্যাপারটা কী?

বোঝো কাণ্ড! The post জিএসটি-র কোপে পড়ে ভোটের বাজারে বেজায় চটে ‘নির্বাচন’! ব্যাপারটা কী? appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 05:49 PM Apr 18, 2018Updated: 06:04 PM Apr 18, 2018

সন্দীপ মজুমদার, উলুবেড়িয়া: এবার ‘নির্বাচনে’র কর্মকাণ্ডের উপরে পড়ল জিএসটি-র কোপ। তাতেই বেজায় ক্ষুব্ধ ‘নির্বাচন কমিশন’। জিএসটি-র প্রভাবে প্রায় থমকে গিয়েছে ‘নির্বাচনে’র যাবতীয় কাজ। চমকে উঠলেন নাকি?  না না চমকাবেন না। এই তথ্যের পিছনে আছে আরও এক তথ্য, যেটুকু পড়লে চমক ভাঙবে। তারপর নিজের অজান্তেই হয়তো মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসবে সহানুভূতি সূচক কোনও শব্দ। আসলে এই নির্বাচন কিন্তু “সেই ‘নির্বাচন’ নয়। এক কথায় এই ‘নির্বাচনে’-এর সঙ্গে ভোট সংক্রান্ত কোনও বিষয় জড়িয়ে নেই। ইনি হলেন শ্যামপুর থানার গাদিয়াড়া সংলগ্ন বাণেশ্বরপুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বছর আটচল্লিশের বাসিন্দা নির্বাচন সামন্ত। গাদিয়াড়া বাস রাস্তার ধারেই রয়েছে তাঁর ছোট্ট একটি স্টিল ও কাঠের আসবাবপত্রের দোকান। এই দোকানে সকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমান। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলে জোর আলোচনা। তাঁদেরই কেউ কেউ কৌতুক করে দোকানটিকে নির্বাচন কমিশন বা নির্বাচনের দপ্তর নামে ডাকেন।

Advertisement

[পঞ্চায়েতে ভাল কাজের পুরস্কার, বিশ্বব্যাংকের ৪২৬ কোটি টাকা পাচ্ছে রাজ্য]

পেশায় কাঠ মিস্ত্রি নির্বাচন কোনও এক ভোটের দিনে জন্মগ্রহণ করেন। সম্ভবত সেই কারণেই বাবা-মা তাঁর নাম রেখেছিলেন নির্বাচন। সেই থেকেই সারা গ্রামের মানুষের কাছে তিনি নির্বাচন নামে পরিচিত। লোকসভা, বিধানসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচন এলেই এলাকায় তাঁকে নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন নির্বাচন সামন্ত। কেউ কেউ মজা করে তাঁর দিকে তাকিয়ে বলেন, “কিগো আবার একটা নির্বাচন এল তো?” নম্র ও শান্ত স্বভাবের নির্বাচনবাবু প্রতিবেশীদের কথায় কখনও রাগ করেন না। নিতান্তই ছাপোষা ও মৃদুভাষী নির্বাচন তাঁর এলাকায় সর্বজন প্রিয় মানুষ হিসাবেই পরিচিত। স্ত্রী শুক্লা ও দুই পুত্র-কন্যা রামচরণ, মোনালিসাকে নিয়ে কোনও ভাবে চলে নির্বাচনের সংসার। ছেলে বিএ পড়ার পাশাপাশি বেসিক ট্রেনিংও নিয়েছে, মেয়ে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

[পঞ্চায়েত ভোটের আগে বড় ধাক্কা, তৃণমূল কর্মীকে খুনে দোষী সাব্যস্ত ১৮ সিপিএম সদস্য]

এহেন নির্বাচন এখন এক সঙ্কটের সম্মুখীন। জিএসটি চালু হওয়ার পরেই শুরু হয়েছে যত বিপত্তি। এখন আসবাব তৈরির কাঁচা মাল ও স্টিল ফার্নিচারের উপরে জিএসটি লাগু হয়েছে। যার ফলে আসবাবের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষ জিএসটি-র ব্যাখ্যা শুনতে রাজি নন। হঠাৎ করে সব মূল্য বেড়ে যাওয়ায় আসবাব বিক্রি কমেছে। সঙ্গত কারণেই মন্দা দেখা দিয়েছে নির্বাচনের ব্যবসায়। তিনি জানান, ছোট ব্যবসা তাঁর।  সেখান থেকেও লভ্যাংশ কমিয়ে জিনিস বিক্রি করতে হচ্ছে। মানুষ নির্বাচনের কাছে রাজনীতির নির্বাচনের আলাদা কোনও তাৎপর্য নেই। মেহের আলির মতো তিনিও বিলক্ষণ বোঝেন “সব ঝুটা হ্যায়।” তিনি জানেন “রাজা আসে যায়, নীল জামা গায়ে লাল জামা গায়ে। পোষাকের রঙ বদলায়, মুখোশের ঢং বদলায়,  দিন বদলায় না।” তাই নিজের নাম নির্বাচন হলেও যে কোনও পালাবদলের নির্বাচন সম্পর্কে একেবারেই নিস্পৃহ এই নির্বাচন সামন্ত। উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে নির্বাচনবাবু বলেন, ছেলেটা একটা কাজ পেলে অনেক উপকার হত। এখন দুই নির্বাচনই গভীর সঙ্কটে,  এক নির্বাচন তাকিয়ে আদালতের রায়ের দিকে। আর এক নির্বাচন তাকিয়ে ছেলের একটা চাকরির দিকে!

The post জিএসটি-র কোপে পড়ে ভোটের বাজারে বেজায় চটে ‘নির্বাচন’! ব্যাপারটা কী? appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার