গত কয়েকদিন আগেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে বসেছেন নীতীন নবীন (Nitin Nabin)। আর এই পদে বসেই রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়তে চলেছেন তিনি! সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। গেরুয়া ব্রিগেডের যা হাল, তাতে ভোট বৈতরণী পেরনো অতি কঠিন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আর তা টের পাওয়ার পর পদে বসেই নীতীন নবীন প্রথম সফর হিসেবে বাংলাকে (Nitin Nabin to Visit West Bengal) বেছে নিয়েছেন। তবে কলকাতায় নয়, আসছেন দুর্গাপুরে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেখানে কমল মেলার উদ্বোধন করবেন বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতি। তবে সেই মেলায় লোক টানতে যে পন্থা অবলম্বন করেছে পদ্মশিবির, তা নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সেই মেলায় সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে উপস্থিত থাকবেন মোনালি ঠাকুর (Monali Thakur)। তারই প্রচার চলছে খোদ বিজেপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমাজমাধ্যমে সঙ্গীত অনুষ্ঠানের প্রচার? এমনকী মেলায় ভিড় টানতেই এহেন প্রচার করা হচ্ছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে খোদ গেরুয়া শিবিরেই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকারের উন্নয়নকে হাতিয়ার করে ইতিমধ্যে ময়দানে শাসকদল তৃণমূল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে একাধিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে মানুষ উপকৃত। কিন্তু তা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন বহু বিজেপি নেতারা। এমনকী ক্ষমতায় আসলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধের হুঁশিয়ারিও শোনা গিয়েছে। এই অবস্থায় বঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রের প্রকল্পগুলির কথা তুলে ধরতে কমল মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আজ ২৭ জানুয়ারি থেকে ইস্পাত নগরী দুর্গাপুরের চিত্রালয় গ্রাউন্ডে শুরু হচ্ছে এই মেলা। যেখানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। থাকবেন একাধিক বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতারাও।
আর সেই মেলায় সঙ্গীত শিল্পী মোনালি ঠাকুরের লাইভ কনসার্ট! তারই জোরদার বঙ্গ বিজেপির অফিসিয়াল সমাজমাধ্যমে। যেখানে মোনালি ঠাকুরকে বলতে শোনা যাচ্ছে, 'আমি আসছি, কমল মেলা প্রাঙ্গনে।' শুধু তাই নয়, পেজে লেখা হয়েছে, 'দুর্গাপুরবাসী প্রস্তুত তো? কমল মেলায় দর্শকদের মনে খুশির জোয়ার তুলতে আসছেন মোনালি ঠাকুর। ২৭ জানুয়ারি, চিত্রালয় গ্রাউন্ড, দুর্গাপুর। সকলের জন্য অপেক্ষা করছে গান আর আনন্দে ভরা জমজমাট এক সন্ধ্যা।'
আর এখানেই বঙ্গ বিজেপির অন্দরে প্রশ্ন, দলীয় মেলার সঙ্গীত সন্ধ্যার প্রচার কেন দলের অফিসিয়াল সমাজমাধ্যমে করা হবে? ভিড় নিয়ে যাতে দলের নয়া সর্বভারতীয় সভাপতির সামনে বাংলার নেতাদের অস্বস্তির মুখে পড়তে হয় সেজন্যই কি এহেন ব্যবস্থা? তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
অন্যদিকে শুধু মেলার আয়োজন নয়, বঙ্গ বিজেপি নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন নীতীন নবীন। আজ রাতেই দুর্গাপুরের এক বেসরকারি হোটেলে বিজেপির রাজ্য কোর কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এরপর ২৮ জানুয়ারি সকালে ভিড়িঙ্গি কালীবাড়িতে পুজো দেওয়ার পর পূর্ব বর্ধমান কমিটির সঙ্গে মেলা ময়দানেই বৈঠক তাঁর। পরে রানিগঞ্জে বৈঠক করবেন আসানসোল জেলা কার্যকর্তাদের সঙ্গে। বিধানসভা ভোটে দলের রণকৌশল নিয়েই এই বৈঠক বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
