প্রেমিক/প্রেমিকা অথবা স্বামী/স্ত্রীয়ের সঙ্গে ঝগড়া হয় না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। তবে এমনও কিছু দম্পতি থাকে, যাদের মধ্যে একেবারেই বিবাদ হয় না। কোনও বিষয়েই কথা কাটাকাটি হয় না তাদের। সামান্য ঝামেলার সম্ভাবনা তৈরি হলেও মিটে যায় পরক্ষণেই। কিন্তু এমনটা কি স্বাভাবিক? মনোবিদরা বলছেন, কখনওই মতপার্থক্য না হওয়াও এক ধরনের রেড ফ্ল্যাগ!
Advertisement
এক পক্ষ যদি উদাসীন হয়, তাহলে বিবাদ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাই থাকে না।
কিন্তু কেন?
- এমন সম্পর্কের অর্থ হল, কোনও এক পক্ষ তার অসন্তোষ প্রকাশ করছে না। সম্পর্ক অটুট রাখতে, মনের কথা চেপে রাখছে। এই অভ্যাস শরীর-মনের পক্ষে ভালো নয়। হয়তো এক পর্যায়ে আর ধরে রাখতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়বে সে। কিন্তু অপরপক্ষ তখন বুঝতেই পারবে না যে এই হঠাৎ রাগের কারণ কী।
- কোনও এক পক্ষের সংঘাত এড়ানোর প্রবণতা থেকে এমনটা হতে পারে। কিন্তু এমন সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে গেলে ভবিষ্যতে সমস্যা দেখা দেয়। কারণ যে মানুষেরা সংঘাত এড়াতে চান, তারা আসলে জীবনের আসল সমস্যাগুলির মুখোমুখি হতে চান না।
- কখনওই ঝগড়া না হওয়ার অর্থ কোনও এক পক্ষ মনের কথা লুকিয়ে রাখছেন। সবেতেই ছাড় দিচ্ছেন অপর পক্ষকে। এতে মানসিক দূরত্ব ক্রমেই বাড়তে থাকে। এবং একটা সময়ের পর সেই পক্ষ সম্পর্কের প্রতি সমস্ত মোহ হারিয়ে বসে।
- এক পক্ষের উদাসীনতাও কারণ হতে পারে এর পিছনে। কিছু মানুষ থাকেন যারা সম্পর্কে আসেন ঠিকই, কিন্তু মন থেকে ‘কমিটেড’ হতে চান না। তাই সঙ্গীর ছোটখাটো ত্রুটি নিয়ে মাথা ঘামান না একেবারেই। ফলে ঝগড়া হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয় না।
এড়িয়ে যাবেন না, সঙ্গীর যে আচরণ কষ্ট দিয়েছে, তা জানান সরাসরি।
কী করবেন তাহলে?
- খোলাখুলি কথা বলুন। অস্বস্তি হলে, তা কাটিয়েই সঙ্গীকে জানান মনের অবস্থা। জানবেন, সম্পর্ক ভাঙার চাইতেও বেদনাদায়ক অপরদিকের মানুষটির উদাসীনতা। যদি মনে হয়, এই প্রেম টেনে নিয়ে যাওয়া কঠিন, তবে তা স্বীকার করুন। জানান অপর পক্ষকেও। স্বচ্ছতা ছাড়া একছাদের তলায় দীর্ঘকালের জন্য সম্ভব হবে না।
- কঠিন বিষয় এড়িয়ে যাবেন না। যা নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না, তা মনের উপর বোঝা হয়ে রয়ে যেতে দেবেন না। সঙ্গীকে জানানোর আগে নিজের মুখোমুখি হতে হবে। সম্পর্কটি থেকে কী চান, তা বোঝার চেষ্টা করুন সবার আগে।
- প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। মনোবিদের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে অনেকেরই ছুৎমার্গ থাকে ঠিকই, তবে জোর করেই তা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ এমন আচরণের নেপথ্যে অনেক সময়েই জটিল মানসিক অবস্থা কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
