বাকিংহাম প্যালেস ছাড়ছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস এবং রানি ক্যামিলা। লন্ডনের রাজপ্রাসাদে সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার কথা আগামী বছরে। কিন্তু রাজার সিদ্ধান্ত এই প্রাসাদে আর তাঁরা বসবাস করবেন না। বরং এবার তাঁরা যেখানে থাকবেন, সেই ক্ল্যারেন্স হাউসই হবে তাঁদের স্থায়ী বাসস্থান।
৭৭৫ কক্ষের বাকিংহাম প্যালেস ১৮৩৭ সাল থেকেই ব্রিটেনের রাজ পরিবারের বাসস্থান। এখানে রয়েছে রাজার প্রশাসনিক কার্যালয়ও। এমনকী বহু দেশ থেকে রাষ্ট্রনেতারা ব্রিটেনে এলে এই প্রাসাদের আতিথ্য গ্রহণ করে ভোজে অংশও নেন। আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানও এখানেই হয়। কিন্তু বহু প্রাচীন এই প্রাসাদে সংস্কার প্রয়োজন হয়ে পড়ে এক দশক আগেই। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হয় সংস্কার। যা শেষ হতে পারে ২০২৭ সালেই। ৩৭ কোটি পাউন্ড তথা ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচে প্রাসাদের সংস্থারের কাজ হলেও এখানে আর ফিরতে চান না রাজা চার্লস। কিন্তু কেন? জানা যাচ্ছে, এই প্রাসাদকে সাধারণের আরও বেশি প্রবেশযোগ্য করতে তুলতেই এহেন সিদ্ধান্ত।
সেন্ট জেমস প্যালেসের ঠিক পাশেই ক্ল্যারেন্স হাউস। সেখানে চার্লস অবশ্য অবশ্য সস্ত্রীক বসবাস করেছেন ২০০৫ সালের পর থেকে। রাজা-রানির বয়স এখন সত্তরের কোঠার শেষ ভাগে। বিবিসি সূত্রে জানা গিয়েছে যে, তাঁরা কেউই নিজেদের এবং তাঁদের কর্মীদের বাকিংহাম প্যালেসে স্থানান্তরের ধকল বা ঝামেলা পোহাতে চান না। এ ছাড়াও নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। রাজা বাকিংহাম প্যালেসে অবস্থান করলে দর্শনার্থীর সংখ্যা এবং তাঁদের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত এলাকার পরিসর উভয়ই সীমিত হয়ে পড়ত।
২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাকিংহাম প্যালেসের সিংহাসনে বসেছিলেন চার্লস। সংস্কারের কাজ শুরুর পর থেকে লন্ডনের ক্ল্যারেন্স হাউসে বসবাস শুরু করেন তিনি। এখনও কার্যত সেখানেই থাকতেন তিনি। কিন্তু এবার বাকিংহাম প্যালেসের বসবাস পাকাপাকি ভাবে তুলতে চলেছেন রাজা।
