shono
Advertisement

Breaking News

kajal sheikh

কাজলের ইস্তফার নেপথ্যে ম্যাসাঞ্জোরের রিসর্টে ‘গোপন বৈঠক’? বীরভূমেও মহারাষ্ট্র-গোয়া মডেল!

নবগোপালের কথায়, ''এখন রাজ্যে বিজেপির সরকার। তারা সভাধিপতি হিসাবে যাঁকে চাইবে, আমরা তাঁকেই সমর্থন করব।''
Published By: Kousik SinhaPosted: 04:55 PM Aug 20, 2026Updated: 04:55 PM Aug 20, 2026

মহারাষ্ট্র কিংবা গোয়ার ‘রিসর্ট রাজনীতি’র গল্প এতদিন ছিল মূলত ভিন রাজ্যের রাজনৈতিক অভিধানে। এ বার সেই শব্দবন্ধই ঢুকে পড়ল বীরভূমের জেলা রাজনীতিতে! জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডের ম্যাসাঞ্জোরের একটি গেস্ট হাউসে তৃণমূলের কাজল-বিরোধী সদস্যদের বৈঠকের খবর সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক চর্চা। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, সেই বৈঠকে বিজেপির একাধিক নেতার উপস্থিতি ছিল বলেও দাবি। যদিও এই বিষয়ে একেবারেই স্পিকটি নট সবাই।

Advertisement

রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা, ম্যাসাঞ্জোরের বৈঠকে শুধু সভাধিপতির নাম নিয়ে আলোচনা হয়নি, বরং জেলা পরিষদের ক্ষমতার ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়েও ‘দর কষাকষি’ হয়েছে!

গত ৪ আগস্ট সভাধিপতি কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন ১৯ জন জেলা পরিষদ সদস্য। তার পর শুক্রবার, ২১ অগস্ট তলবি সভা ডাকা হয়। যদিও সেই সভার আগেই বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করেই পদত্যাগ করেন ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখ। ফলে ভোটাভুটির আগেই এহেন পদক্ষেপ একেবারে মোড় ঘুরিয়ে দেয় বীরভূমের রাজনীতিতে। এমনকী পরবর্তী সভাধিপতি নির্বাচন ঘিরেই নতুন করে অঙ্ক কষা শুরু হয়েছে। কিন্তু কেন কাজল শেখ ইস্তফা দিলেন? রাজনৈতিকমহলের মতে, বিধায়কের এহেন সিদ্ধান্তের পিছনে ম্যাসাঞ্জোরের ওই বৈঠক! রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, সেখানে কাজল-বিরোধী তৃণমূলের ১৮ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মুরারইয়ের প্রদীপ ভকত, ময়ূরেশ্বরের বন্দনা সাহা, আঁখি অধিকারী-সহ একাধিক সদস্য ছিলেন বলে খবর। বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন খয়রাশোলের জেলা পরিষদ সদস্য নবগোপাল বাউড়ি। শুধু তৃণমূল সদস্যরাই নন, বিজেপির একাধিক নেতার উপস্থিতিও ছিল বলে সূত্রের দাবি।

এরপরেই এদিন জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন কাজল! অন্তত এমনটাই সূত্রের দাবি। যদিও এই বৈঠক ঘিরেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। নতুন সভাধিপতি কে হবেন? কাজল শেখের পর কি জেলা পরিষদে তৈরি হবে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ? আর সেই সমীকরণে কি তৃণমূলের দুই পরিচিত গোষ্ঠী—অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখ—দুই পক্ষকেই কার্যত দূরে রাখার চেষ্টা হচ্ছে? রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা, ম্যাসাঞ্জোরের বৈঠকে শুধু সভাধিপতির নাম নিয়ে আলোচনা হয়নি, বরং জেলা পরিষদের ক্ষমতার ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়েও ‘দর কষাকষি’ হয়েছে!

যদিও বিজেপির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি নবগোপাল। তাঁর বক্তব্য, ''আমরা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং পরবর্তী সভাধিপতি কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা করতে ম্যাসাঞ্জোরের একটি রিসর্টে বসেছিলাম। এর বেশি কিছু বলব না।'' তাঁর আরও দাবি, জেলা পরিষদের ৫০ জন তৃণমূল সদস্যের মধ্যে ৪৭ জন তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। তবে তাঁর পরের মন্তব্যই জল্পনায় আরও ইন্ধন জুগিয়েছে। নবগোপালের কথায়, ''এখন রাজ্যে বিজেপির সরকার। তারা সভাধিপতি হিসাবে যাঁকে চাইবে, আমরা তাঁকেই সমর্থন করব।'' ফলে প্রশ্ন উঠছে, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচন কি শুধুই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই? নাকি ম্যাসাঞ্জোরের ‘রিসর্ট বৈঠক’ থেকেই তৈরি হচ্ছে একেবারে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ? যদিও তা আগামিদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement