সারা ছাইভস্ম গায়ে মাখা, মাথায় বিরাট জটা, হাতে গাঁজার কলকে। থুড়ি, পকোড়ার ঝুড়ি। পকোড়া! ঠিকই শুনেছেন। পুণ্যতীর্থ গঙ্গাসাগরে ভিড় জমিয়েছেন সাধু-সন্তরা। এসেছেন নাগা বাবারাও। কপিলমুনির মন্দিরের পাশেই সার দিয়ে তাঁদের আখড়া। ভক্তদের আনাগোনা লেগেই রয়েছে। তেমনই এক আখড়ার সামনে দেখা গেল কালো মাথার ভিড়। ভিড় ঠেলে এগোতেই অবাক করা দৃশ্য। ভক্তদের হাতে হাতে 'প্রসাদী' পকোড়া বিলি করছেন ওই সাধুবাবা! যিনি বা যাঁরাই তাঁর কাছে আশীর্বাদ চাইতে আসছেন, তাঁদের হাতে পকোড়া তুলে দিচ্ছেন তিনি। কিন্তু, প্রসাদে মিছরি বা বাতাসার বদলে পকোড়া কেন? খোলসা করেই বললেন 'পকোড়া বাবা' পুলিন ঠাকুর। জানা গেল আসল রহস্য।
পুলিন ঠাকুর জানালেন, এ নাকি আদতে স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তা। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাই মিষ্টি নয়, নোনতা প্রসাদ হিসাবে ভক্তদের পকোড়া বিলি করছেন এই 'পকোড়া বাবা'। আর, শীতের রাতে গরম গরম পকোড়া পেয়ে যারপরনাই খুশি পুণ্যার্থীরাও। তবে সবটাই নিরামিষ। আদতে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা পুলিন ঠাকুর এই প্রথম সাগরমেলায় এসেছেন। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ধর্মীয় নানা স্থানে ঘুরে বেড়ান। তাঁর সঙ্গী কয়েকজন মিলেই এই পকোড়া তৈরি করছেন। ভক্তদের কাউকেই খালি হাতে ফেরাচ্ছেন না পকোড়া বাবা। আখড়ার সামনে ভিড় জমানো মানুষের কথায়, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতায় সাধুবাবার এহেন প্রচার নিঃসন্দেহে অবাক করার মতো।
রয়েছে আরও রকমফের। নাগা সাধুদের ডেরায় এসেছেন লাইট বাবা, জুনা আখড়ার চেতন গিরি। সারা শরীরে ছাই মেখে শরীরজুড়ে এলইডি লাইট জড়িয়ে রয়েছেন তিনি। ধূমপান করছেন মাঝে মাঝেই। আর ভক্তদের আশীর্বাদ করছেন। এক নাগাবাবা তো আবার নিজের আখড়ায় বসে রয়েছেন কিউআর কোড নিয়ে! ভক্তরা যদি কেউ সরাসরি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থসাহায্য করেন, সেই আশাতেই সাধুবাবার এই অভিনব ব্যবস্থা। যা দেখেশুনে একটা কথা মনে হতে বাধ্য - এ যেন রথ দেখা, কলা বেচা।
