shono
Advertisement
Flight Ticket Price

পুজোয় পাহাড় যাওয়ার প্ল্যান? এবার বাস-বিমানের টিকিটের দামে ছ্যাঁকা লাগবে পকেটে!

ভুটানের ভাড়া যেখানে মোটামুটি ১৫ হাজারের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে, সেখানে পুজোয় সেটা দ্বিগুণ। নেপালও তাই।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 01:23 PM Aug 24, 2026Updated: 03:27 PM Aug 24, 2026

পুজোর সময় পাহাড়প্রেমী বহু মানুষ যে আকাশপথে  হয়ে দার্জিলিং বা সিকিম ছোটেন। কিন্তু এবার পুজোয় আকাশে উড়তে গুনতে হবে আকাশ ছোঁয়া কড়ি! চারহাজারে মিলত যে টিকিট। সেই উড়ান ধরতে ফেলতে হবে কম করে ৮ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ ১৫ হাজার।

Advertisement

উত্তর পূর্বাঞ্চলের পর্যটন পুজোর সময় এককথায় 'বুম'। সেসব রাজ্যে বিমানে ভ্রমণ কেন্দ্রীয় সরকারি নীতির কারণে অনেকটাই সস্তা ছিল এই কিছুদিন আগেও। সেভেন সিস্টারের কোথাও এখন উড়ে যেতে গেলে পুড়তে হবে বিমানের টিকিটের দামে। ডিমাপুর, ইটানগর যেতে যে টাকা গুনতে হবে তা ভাবনার বাইরে। ইটানগরের টিকিটের দাম সাত থেকে ১০ হাজার ছুঁয়েছে। ডিমাপুর ৭ থেকে ৮ হাজার। ত্রিপুরা এখনও ধরাছোঁয়ার মধ্যে। হাজার চারেক ফেললেই মিলছে টিকিট। মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু তো সেই কবেই ছেঁকা দিচ্ছে প্রায় দশ হাজারের কোটা ছুঁয়ে। কিন্তু বাগডোগরাও সেই পথে? ভুটানের ভাড়া যেখানে মোটামুটি ১৫ হাজারের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে, সেখানে পুজোয় সেটা দ্বিগুণ। নেপালও তাই।

কলকাতার বহু মানুষের কাছে বিদেশ মানেই ব্যাঙ্কক-পাটায়া। ব্যাঙ্ককের টিকিট এক বছর আগেও সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করত। এখন সেটাই বেড়ে সবসময় কম করে ১০ থেকে ১১ হাজার। আর পুজোয় সেই রুটের ভাড়া ১৩ থেকে ১৪ হাজার। ফলে ট্রাভেল এজেন্টরাও ব্যাঙ্ককের প্যাকেজের চার্জ বাড়িয়েছেন। আগে যা ৩৫ হাজারের মধ্যে তিন রাত চারদিন অথবা চার রাতেরও করে দেওয়া যেত, তা এখন দাঁড়িয়েছে কম করে ৪৫ হাজারে। যা ভাবাচ্ছে পর্যটক তো বটেই নিয়মিত বিমান যাত্রীদের। পুজোতে কলকাতা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি কোনও ট্রেনের টিকিট নেই। সবই ভরে গিয়েছে। পুরীর অবস্থাও একই। পড়ে রইল ধর্মতলা, সল্টলেকের মতো জায়গা থেকে ছেড়ে যাওয়া পুরী বা এনজেপির বাস। বর্ধমান, আসানসোল, মেদিনীপুর-সহ বিভিন্ন জেলা থেকেও এখন শিলিগুড়ি বা পুরীগামী বাস ছাড়ছে। কিন্তু পুজোর সময় সেইসব বাসের ভাড়া দ্বিগুন, নিয়ন্ত্রণহীন।

বেসরকারি বাস, তাই তাদের মতো করে ঝোপ বুঝে কোপ মারছে এবং দেখার বা বলার কেউ নেই। বাসমালিক সংগঠনের যুক্তি তেলের দাম বেড়েছে। পুজোয় কলকাত শিলিগুড়ি সাধারণ বাসের ভাড়াই দু'হাজার। আর এসি স্লিপার, কিংবা ভলভো হবে, তা চার হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পুজোর সময় চাহিদা বেশি। তাই ভাড়াও বেশি। এবং রয়‍্যাল ক্রুজারের মতো লাক্সারি বাস সংস্থাগুলি পুজোর বুকিং আটকে রেখেছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী ভাড়া নেবে বলে। কিন্তু বিমানের এই হাল কেন? বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলির দাবি, এর প্রধান কারণ বিশ্বজুড়ে যুদ্ধকালীন অস্থিরতা। এয়ারলাইন্সের মোট খরচের বড় অংশ যায় জেট ফুয়েল বা জ্বালানির পেছনে, যার দাম মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাছাড়া বিমান ভ্রমণকারীর সংখ্যা বাড়লেও বিমানের সংখ্যা সেই অনুমাতে বাড়েনি। সেটাও বড় কারণ। সব মিলিয়ে পুজোয় ভ্রমণপিপাসু বাঙালির মাথায় হাত সামান্য দার্জিলিং, সিকিম অথবা পুরী যাতায়াতের জন্য যে বাস ভাড়া গুনতে হবে তার কথা ভেবে। আর আকাশে ওড়া তো এখন আর্থিক-আতঙ্ক। যা যুদ্ধের চক্করে গগনমাঝে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement