রাজ্যজুড়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন হচ্ছে। সেই উপলক্ষ্যে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) বাংলায়। হুগলির তারকেশ্বরে এদিন সাজো সাজো বর। সভাস্থলে উপচে পড়েছে মানুষের ভিড়। গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা। এদিন বিকেল চারটের পর প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার তারকেশ্বর নামে। তাঁকে স্বাগত, জানাতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কপ্টার থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত হন। তাঁকে অভিবাদন জানাতে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা। বন্দে মাতরম গানের মধ্যে দিতে তাঁকে বরণ করা হয়।
সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলার বিখ্যাত রসগোল্লার হাঁড়ি তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও দেওয়া হয় জলভরা সন্দেশ। তারকেশ্বরের মাহাত্ম্য হিসেবে শিবলিঙ্গ- ডোকরার দুর্গামূতি উপহার দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রথমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য রাখেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বক্তব্যে জানিয়েছেন, এবারই প্রথম রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করা হল। আগের তৃণমূল সরকার এই দিনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করতে চায়নি। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হুগলির জিরাটের বাড়ি সংস্কার করা হবে। তৈরি হবে স্মৃতিসৌধ ও লাইব্রেরি। এদিন সেই কথা জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি স্থাপনের জন্য নির্বাচিত জমির ভূমিপুজো হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে ছবি উপহার দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ছবি- সংগৃহীত
এদিনের তারকেশ্বরের অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় যাবেন। সেখানে লোকভবনে রাতে থাকবেন। আগামী কাল, রবিবার যোগ দিবসে কলকাতার রেড রোডের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি ভারতের তিনটি যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করবেন। মোদির এই সফরেই অভিনব উপহার পেতে চলেছে দেশের নৌসেনা। ভারতীয় নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তিন যুদ্ধজাহাজ। সেগুলি হল আধুনিক স্টিলথ ফ্রিগেট ডুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয়। এই তিন যুদ্ধজাহাজকে কেন্দ্র করে সাজো সাজো রব নৌসেনায়।
এই তিন জাহাজ সমুদ্র যুদ্ধের পাশাপাশি হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ এবং অ্যান্টি সাবমেরিন ক্ষমতাসম্পন্ন। তিনটি জাহাজই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। জাহাজগুলি ডিজাইন করেছে নৌসেনার ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই) দ্বারা। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে উদ্বোধনের পর সমুদ্রে একযোগে কাজ চালাবে জাহাজগুলি। দেশের জলসীমা রক্ষায় এই তিন জাহাজ নৌসেনার ভরসার হয়ে উঠতে চলেছে।
