shono
Advertisement
Shyamaprasad Mukherjee

মোদির মুখে 'ক্যালকাটা কিলিং-নোয়াখালি দাঙ্গা', পশ্চিমবঙ্গের ভারত অন্তর্ভুক্তিতে শ্যামাপ্রসাদের অবদান স্মরণ

আজ, পশ্চিমবঙ্গ দিবসে তারকেশ্বরের অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণের ছত্রে ছত্রে ইতিহাস আড়াল করা নিয়ে বিগত সরকারকে তুলোধোনা করেন।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 05:25 PM Jun 20, 2026Updated: 06:38 PM Jun 20, 2026

ভারতের এক অঙ্গরাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভূক্তি ঘটেছিল রক্তাক্ত ইতিহাসের মধ্যে দিয়ে। সেই রক্তে লেখা 'দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নোয়াখালি দাঙ্গা'। রক্তাক্ত হয়ে হিন্দু বাঙালিকে রক্ষা করার নায়ক ছিলেন গোপাল পাঁঠ। পশ্চিমবঙ্গকে ভারত থেকে আলাদা করে দেওয়ার ষড়য্ন্ত্র রুখে দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৪৬ সালের সেই ইতিহাসের কথা মনে রাখেননি প্রায় কেউই। কারণ, ইচ্ছে করে এসব অধ্যায় বঙ্গবাসীর কাছে গোপন রাখা হয়েছিল সরকারি মদতে। আজ, রাজ্যের প্রথম পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করতে এসে এভাবেই বিগত সরকারগুলিকে তুলোধোনা করে শ্যামাপ্রসাদের অবদানের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার, তারকেশ্বরের অনুষ্ঠানে তাঁর ভাষণের অধিকাংশ জুড়ে রইল পশ্চিমবাংলার ইতিহাস আর বাঙালি হিন্দুর অস্মিতার কথা।

Advertisement

১৯৪৬ সালের মে মাসে কলকাতার হিংসা যা 'গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং' বলে পরিচিত, সেইসঙ্গে নোয়াখালির দাঙ্গা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মোদি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘কলকাতার হিংসায় কত কত বাঙালির মৃত্যু হয়েছিল। তারপর হয়েছিল নোয়াখালির দাঙ্গা। এখানকার মানুষ মাতভূমিকে টুকরো হতে দেখেছিল। পুরো পশ্চিমবঙ্গকে ভারত থেকে আলাদা করে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তা হতে দেননি। সেদিন তিনি না থাকলে আজকের পশ্চিমবঙ্গ হতো না। কংগ্রেস তো হাল ছেড়ে দিয়েছিল।''

শনিবার দুপুরে দুর্গাপুরের কলাইকুণ্ডা থেকে চপারে তারকেশ্বর পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এরপর সড়কপথে অনুষ্ঠানস্থলে যান। মঞ্চে ভাষণ দিতে উঠে বাবা তারকেশ্বরকে প্রণাম জানিয়ে 'হর হর মহাদেব' বলে শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবর্তনের বাংলার পরিবেশ নিয়ে নিজের আনন্দের কথা চেপে রাখতে পারেননি তিনি। বাংলার প্রতিটি কোণা থেকে তাজা হাওয়া আর সুগন্ধ অনুভব করছেন বলে জানান মোদি। বলেন, ‘‘শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে বাংলা। এই পরিবর্তন ভালো লাগছে তো? আজ প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বাংলার পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করছি। তৃণমূল যেভাবে দুর্নীতির গর্ত খুঁড়েছিল, তা ভরাট করতে সময় লাগবে। তবে ডবল ইঞ্জিন সরকার দ্বিগুণ গতিতে কাজ শুরু করছে। বিকাশে নতুন গতি এসেছে। গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থা আরও মজবুত হয়েছে। কৃষি, মৎস্যপালন, রাস্তা তৈরিতে কাজ চলছে।''

তারকেশ্বরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী মোদির। ২০ জুন, শনিবার। ছবি: কৌশিক দত্ত

এরপরই পশ্চিমবঙ্গের বিস্মৃত ইতিহাসের কথা মনে করান মোদি। ১৯৪৬ সালের মে মাসে কলকাতার হিংসা যা 'গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং' বলে পরিচিত, সেইসঙ্গে নোয়াখালির দাঙ্গা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘কলকাতার হিংসায় কত কত বাঙালির মৃত্যু হয়েছিল। তারপর হয়েছিল নোয়াখালির দাঙ্গা। এখানকার মানুষ মাতভূমিকে টুকরো হতে দেখেছিল। পুরো পশ্চিমবঙ্গকে ভারত থেকে আলাদা করে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তা হতে দেননি। সেদিন তিনি না থাকলে আজকের পশ্চিমবঙ্গ হতো না। কংগ্রেস তো হাল ছেড়ে দিয়েছিল।''

প্রায় আধঘণ্টা তারকেশ্বরের এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর চপারে উঠে রওনা দেন কলকাতার দিকে। সন্ধ্যায় মিলেনিয়াম পার্কে যোগ কার্নিভ্যাল আসবেন মোদি। সেখানে ড্রোন শো-সহ একাধিক অনুষ্ঠান আছে। সেসব দেখে লোকভবনে রাত্রিবাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার, যোগ দিবসের ভোরে রেড রোডে যোগাসন করবেন। মূলত এই উপলক্ষেই তাঁর দু'দিনের জন্য কলকাতা সফর।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement