আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের পর অবশেষে শান্তির ইঙ্গিত মিলেছিল মধ্যপ্রাচ্যে। তবে সে প্রক্রিয়ায় জল ঢেলে দিয়েছে ইজরায়েল। লেবাননে একের পর এক হামলার ঘটনায় বাতিল হয়েছে সুইৎজারল্যান্ডের শান্তি আলোচনা। এই ঘটনায় শুরুতে ইজরায়েলের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে এবার প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠলেন ট্রাম্প। জানালেন, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী একজন প্রকৃত যোদ্ধা।
ওয়াশিংটনে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানের উদ্বোধনের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ''আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত লড়াই করেছে।" দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "নেতানিয়াহু একজন সত্যিকারের যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তাঁরই প্রাপ্য।" তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ট্রাম্প এই মন্তব্য এমন সময়ে করলেন যখন লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ব্যাপকভাবে সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইজরায়েল। ট্রাম্প আরও জানান, তিনি ইজরায়েলের সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং ইজরায়েল তাঁকে সম্মান করে। ট্রাম্পের কথা, "আমাদের সম্পর্ক ভালো, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে ওনাকে পাগলামি করা থেকে আমাদের বিরত রাখতে হবে।"
১৮০ ডিগ্রি ঘুরে এবার প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠলেন ট্রাম্প। জানালেন, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী একজন প্রকৃত যোদ্ধা।
উল্লেখ্য, ইরান-আমেরিকার শান্তির লক্ষ্যে ১৪টি শর্তের উপর মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইরান, লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অংশে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। নতুন করে কোনও যুদ্ধ হবে না সেই গ্যারান্টি দেবে ইজরায়েল ও আমেরিকা। ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন, যেন লেবানন ইস্যুতে আরও বেশি দায়িত্ব নেন তিনি। কিন্তু দক্ষিণ লেবানন ও বেইরুটে ইজরায়েলের বোমা বর্ষণ চলছেই। এই অবস্থায় নেতানিয়াহুকে উন্মাদ বলে কটাক্ষ করেছিলেন ট্রাম্প। জুনের শুরুতে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যাহত হওয়ার পর, ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন নেতানিয়াহু ইজরায়েল এবং খোদ ট্রাম্পের ভাবমূর্তির ক্ষতি করছেন।
গুরুতর এই পরিস্থিতিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তরফেও ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলে হয়েছে, নেতানিয়াহু এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন যা ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিকে দুর্বল করে দেবে। কারণ ইজরায়েল চায় হেজবোল্লার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে। চলতি বছরের শেষের দিকে ইজরায়েলে রয়েছে জাতীয় নির্বাচন। তার আগে লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হলে তার প্রভাব ভোটের ফলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। ফলে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যে মউ সই হয়েছে তাতে অসন্তুষ্ট নেতানিয়াহু। ইরানের উপর সর্বোচ্চ চাপ রাখার পক্ষে তিনি। এমন পরিস্থিতির মাঝে ট্রাম্পের তরফে নেতানিয়াহুর প্রশংসা আসলে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর মন রাখার চেষ্টা বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
