রাজকুমার কর্মকার, আলিপুরদুয়ার: ফের চোরা শিকারিদের হাতে খুন হল একটি বাইসন। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে একটি পূর্ণবয়স্ক বাইসন মেরে দু’টি পা কেটে নিয়ে গিয়েছে চোরাশিকারিরা। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বন মহলে। এই ঘটনায় জঙ্গল লাগোয়া সুভাষিনী চা বাগানের দু’জনকে গ্রেপ্তার করলেও এখনই তাদের নাম প্রকাশ করতে চাইছে না বন দপ্তর। এদিকে শনিবারই পূর্ণ বয়স্ক একটি বাইসনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে। রবিবার বিকেলে প্রকল্পের পূর্ব বিভাগের দক্ষিণ রায়ডাক রেঞ্জের ছিপড়ার জঙ্গল থেকে পুরুষ বাইসনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
[প্রাণীদের ছবি তুললেই পৌঁছে যাবে তথ্য, নয়া অ্যাপ বন দপ্তরের]
বন দপ্তর সুত্রে জানা গিয়েছে, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হাসিমারা বিট এলাকায় শনিবার রাতেই আগুন ধরিয়ে দেয় চোরাশিকারিরা। জঙ্গলের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে। রাতভর সেই আগুন নেভান বনকর্মীরা। আগুন নেভানোর পর শুরু হয় তল্লাশি। তখনই প্রথমে একটি বাইসনের চামড়ার কিছুটা অংশ উদ্ধার হয়। পরে সুভাষিণী চা বাগানের ভিতরে বাইসনের দেহ পাওয়া যায়। ওই মৃতদেহের পিছনের দু’টি পা কাটা ছিল। তার জেরে ধন্দে পড়েন বনকর্মীরা। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁদের অনুমান, স্থানীয় চোরাশিকারিরাই এই কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এরপরি সুভাষিণী চা বাগানের দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণী সহায়ক বিমল দেবনাথ বলেন, “একটি বাইসনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তদন্ত করছি। ঘটনায় দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
[নাগরাকাটায় ৯ ফুটের চিতার চামড়া সমেত গ্রেপ্তার ২]
অন্যদিকে রবিবারই বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে একটি পূর্ণবয়স্ক বাইসনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে চোরাশিকারিদের দিকে সন্দেহ করা হলেও পরে জানা যায়, সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়ের জেরেই ওই বাইসনটির মৃত্যু হয়েছে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পূর্ব বিভাগের ডিএফডি প্রদীপ বাউরি বলেন, “বাইসনটির শরীরের কোনও অংশ চুরি হয়নি। মৃত পুরুষ বাইসনটির সারা শরীরে ক্ষত রয়েছে। যা দেখে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়ে এই বাইসনের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।” উল্লেখ্য, এবার বাঘ শুমারের অঙ্গ হিসেবে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে তৃণভোজীদের গণনা হয়েছে। সেই রিপোর্ট এখনও হাতে পায়নি বন দপ্তর। এর আগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ৭৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় পাঁচ শতাধিক বাইসন রয়েছে। কিন্তু এবার গণনার সময় বিভিন্ন গণনাকারী দল প্রচুর বাইসনের শাবক দেখতে পেয়েছেন। যা দেখে এই বনাঞ্চলে বাইসনের সংখ্যা বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তা মনে করছেন আধিকারিকরা।
The post জলদাপাড়ায় ফের চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য, বাইসন মেরে দুই পা কেটে চম্পট appeared first on Sangbad Pratidin.
