পশ্চিমবঙ্গের চতুর্থ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়। যুক্তফ্রন্ট সরকার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকাকালীন শেষের বছরগুলোয় রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তুঙ্গে পৌঁছায়। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষকে ফিরিয়ে আনার পক্ষে মত দেন প্রবীণ রাজনীতিবিদেরা। ২ নভেম্বর, ১৯৬৭–পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে ফিরে এলেন প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ (Prafulla Chandra Ghosh)।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, স্বাধীন ভারতে, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রীই ছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ। তিনি ছিলেন একাধারে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামী। ১৮৯১-এর ২৪ ডিসেম্বর অবিভক্ত বাংলার ঢাকা জেলার মালিকান্দায় তাঁর জন্ম। ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। কিছুকাল প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনার পর, কলকাতার টাঁকশালে ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট মাস্টার পদে নিয়োজিত হন। সেই চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে, যোগ দেন স্বাধীনতা সংগ্রামে।
তাঁকে দ্বিতীয়বার ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যটি সফল হল না। ফলে কেবলমাত্র ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন থাকার পরেই প্রফুল্লচন্দ্র পদত্যাগ করলেন। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের জন্য শুরু হল রাষ্ট্রপতি শাসন।
মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে পাথেয় করে প্রফুল্লচন্দ্র (Prafulla Chandra Ghosh) নির্মাণ করেছিলেন ‘অভয় আশ্রম’। ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় প্রাদেশিক রাষ্ট্রীয় সমিতির সম্পাদকপদ, ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে লবণ সত্যাগ্রহে যোগদান। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে আবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যপদ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
তবে তাঁকে দ্বিতীয়বার ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যটি সফল হল না। ফলে কেবলমাত্র ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন থাকার পরেই প্রফুল্লচন্দ্র পদত্যাগ করলেন। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের জন্য শুরু হল রাষ্ট্রপতি শাসন।
