সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: মহুয়া খেয়ে ‘মাতাল’ দলছুট দাঁতাল। আর তাকে বাগে আনতে রাত শেষে ভোর হয়ে গেল। কিন্তু উদ্বেগ কাটল না বনদপ্তরের। কাটবেই বা কী করে? শনিবার রাতভর পুরুলিয়া বনবিভাগের ঝালদা বনাঞ্চলের অযোধ্যা পাহাড়তলির ডাকাই, ওলগাড়া, ওনা গ্রামে যেভাবে কলাগাছ মুড়িয়ে কাঁচা বাড়ির একাংশ ভেঙে গ্রীষ্মকালীন সবজি তছনছ করেছে, তাতে কালঘাম ছুটেছে বনকর্মীদের। শনিবার সন্ধের দিকে দলছুট একটি দাঁতাল কোটশিলা বনাঞ্চলের গজরাইডির জঙ্গল দিয়ে ঝালদা বনাঞ্চলে ঢুকে পড়ে। তারপর রাত হতেই হাতিটি ডাকাই গ্রামে যায়। সেখানেই ঘটে অঘটন। ওই গ্রামের এক বাসিন্দার বাড়িতে মজুত রাখা মহুল সাবাড় করে নেয়। সেই সঙ্গে ওই বাড়িতেই থাকা মহুল থেকে তৈরি মহুয়াও পান করে । ব্যস, তারপর সবই নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
মুহূর্তেই মত্ত হয়ে যায় ওই দলছুট দাঁতাল। গ্রামে একের পর এক কলাগাছ মুড়িয়ে খেতে থাকে। ওই গ্রামের একটি কাঁচা বাড়ির একাংশ ভেঙে দেয়। তারপর এদিক সেদিক টলতে থাকে। ততক্ষণে বনকর্মীরা বুঝে গিয়েছেন, এ হাতি একেবারে মত্ত। ওই রাতেই হ্যান্ডমাইক নিয়ে বন কর্মীরা মানুষজনকে সচেতন করেন। হাতিটিকে ড্রাইভ করতেও বেগ পেতে হয় বনকর্মীদের। বেশি তাড়াহুড়ো করলে হিতে বিপরীত হতে পারে এই বিষয়টি মাথায় রেখে ধীরে সুস্থে লোকালয় থেকে সরানোর চেষ্টা করেন।
[আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তানের চেয়েও খারাপ অবস্থা হবে’, বিধায়ককে হাসপাতালে দেখে বললেন শুভেন্দু]
কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। মহুল আর মহুয়া খেয়ে ‘মাতলামি’ বাড়তেই থাকে। কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের তথা পুরুলিয়া বনবিভাগের দায়িত্বে থাকা অসিতাভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এখন মহুলের মরশুম। আমাদের ধারাবাহিকভাবে প্রচার চলছে এই বনজ সম্পদ যাতে বাড়িতে সঠিকভাবে মজুত করে রাখা থাকে। যাতে হাতির মতো বন্যপ্রাণ সহজে টের না পায়। এছাড়া জঙ্গলে মহুল কুড়াতেও সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।”
ভাল্লুকের মতো হাতির এই মহুল সেভাবে প্রিয় না হলেও এই সময় দেখা যায় কোনও না কোনও কারণে হাতি এই বনজ সম্পদ খেয়ে মত্ত হয়ে যায়। পুরুলিয়ার মত বনমহলের জেলায় জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় সকলের বাড়িতেই যেমন মহুল মজুত থাকে। তেমনই তা থেকে তৈরি মহুয়াও বিক্রিবাটার জন্য রাখা হয়। সেই কারণেই সাবধানতা অবলম্বন করতে প্রচার চলছে বনদপ্তরের। ডাকাই গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, “আমাদের কপাল ভাল ওই মত্ত হাতিটি দ্রুত অন্য গ্রামে চলে গিয়েছিল। না হলে ওই রাতে কী হত কে জানে!”
