বিনোদন থেকে শিক্ষা। প্রচার হোক বা প্রতিবাদ। শহরাঞ্চল হোক কিংবা গ্রামাঞ্চল। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যম চলমান জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। রোজকার কর্মজীবনের ফাঁকে দু'একটা ছবি, লেখা পোস্ট না করলে অনেকের কাছে সারাদিনের কর্মকাণ্ড যেন সমাপ্ত হয় না। অতি সাধারণ মানুষও সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে 'ফেমাস' হয়ে উঠেন। তবে এর বিপরীতে ঘরে বসেই উসকানিমূলক পোস্ট, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত থেকে সরকারকে আক্রমণ। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইমের একটা অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সোশাল মিডিয়া মনিটরিং সেল চালু হল।
অতীতে সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সাইবার ক্রাইম থানা দেখত। তবে এবার ওই কাজ করবে সোশাল মিডিয়া মনিটরিং সেল। ওই সেলের ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন সাব ইন্সপেক্টরকে। এই মর্মে সোমবার পুরুলিয়া পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি একটি নির্দেশিকা জারি করেন। অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওসি সহ কয়েকজন সাব ইন্সপেক্টরকে রদবদল করা হয়েছে। পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন,"সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি করা পুলিশের কাজ। এতদিন এই কাজ সাইবার ক্রাইম থানা দেখত। এবার ওই কাজের জন্য নির্দিষ্ট সেল তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী তিন ওসির রদবদল করা হয়েছে।"
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া সদর মহিলা থানার ওসি অর্পিতা ভট্টকে সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেলের ইনচার্জ করা হয়েছে। সদর মহিলা থানার ওসি হিসাবে ঝালদার তুলিন ফাঁড়ি থেকে আসছেন সুমনা কর। তুলিনে ইনচার্জ হিসাবে পুরুলিয়া মফস্বল থানার থেকে যাচ্ছেন সুব্রত সরকার। পাশাপশি টামনা থানায় দীর্ঘদিন ধরে ওসির দায়িত্বে থাকা তাপসকুমার মিশ্রকে কাশিপুর থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কাশিপুর থানার ওসি শুভঙ্কর সরকার টামনা থানার ওসি হয়ে আসছেন। এছাড়া সাইবার অপরাধের তদন্তে পটু অঞ্জনকুমার বিশ্বাসকে পুরুলিয়া সদর থানা থেকে পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম থানায় আনা হয়েছে। অতীতে তিনি সেখানে ছিলেন। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া সেলটি জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ একটি শাখা। এই সেলের কাজ হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমের সমস্ত ধরনের প্ল্যাটফর্মে নজরদারি চালানো। বিশেষ করে প্ররোচনামূলক পোস্ট, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত। এছাড়াও কোনো ঘটনাকে বিকৃত করে বা এডিট করে রাজ্য সরকার বা পুলিশ প্রশাসনকে নিশানার মতো ঘটনায় ভাইরাল হওয়ার পূর্বেই যাতে পুলিশের নজরে সেগুলি চলে আসে। তারপর সেই বিষয়গুলির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে জেলা পুলিশ।
