ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আমেরিকার বোমারু বিমানের হানা থেকে রক্ষা পেতে তৈরি হয়েছিল টানেল। অস্ত্র, সরঞ্জাম থেকে সেনাবাহিনীর চলাচল ও থাকার জন্য অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছিল এই কু চি টানেল। এবার কি চিকেনস নেক রক্ষায় ভিয়েতনামের কু চি টানেলের আদলে রেলপথ তৈরি হবে চিকেনস নেকে? যুদ্ধ বাঁধলে ওই পথে মাটির তলা দিয়ে যাবে অস্ত্র, রসদ?
চিকেনস নেক অর্থাৎ 'শিলিগুড়ি করিডর'-এর নিরাপত্তা আঁটসাঁট করতে আরও কড়া পদক্ষেপ ভারতের। এবার মাটির নিচে প্রায় ৪০ কিলোমিটার 'স্ট্র্যাটেজিক রেল করিডর' গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে রেলমন্ত্রক। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটির উপরে থাকা ডবল লাইনকে ফোর লাইন করা হবে। দুটি রেললাইন থাকবে মাটির নিচে। রেললাইনগুলি অসমের তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ির রাঙাপানি পর্যন্ত হবে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মাটির উপরের রেলপথ ক্ষতিগ্রস্থ হলে আন্ডারগ্রাউন্ড রেলপথে সেনার কাছে যুদ্ধের সরঞ্জাম, রসদ পৌঁছে দিতে ওই পদক্ষেপ।
ইতিমধ্যে চিকেনস নেক ঘিরে নয়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। নতুন ডিজাইনের বেড়ায় ঢেকেছে ৭৫ শতাংশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা। আধুনিক বেড়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শক্তিশালী নজরদারি ক্যামেরা এবং উন্নত এরিয়া ডমিনেশন ব্যবস্থা। সীমান্তের পাতা পড়লেও এখন সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নজরে আসবে। সেই সঙ্গে আত্মরক্ষার জন্য ঢাল করা হয়েছে এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম। রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা সারফেস টু এয়ার মিসাইলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে সীমান্তে। এছাড়াও ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত চিকেনস নেক রক্ষায় বাংলাদেশ সীমান্তের পাশে অসমের ধুবড়ি সংলগ্ন বামুনি, বিহারের কিশনগঞ্জ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকায় তিনটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে চিকেনস নেক ঘিরে নয়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। নতুন ডিজাইনের বেড়ায় ঢেকেছে ৭৫ শতাংশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা। আধুনিক বেড়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শক্তিশালী নজরদারি ক্যামেরা এবং উন্নত এরিয়া ডমিনেশন ব্যবস্থা।
চিকেনস নেক ঘিরে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিন। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভারতকে দুর্বল করতে শিলিগুড়ি করিডরকেই পাখির চোখ করেছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। তিনটি দেশের সীমান্ত এক জায়গায় মেশায় এই পথে অস্ত্রশস্ত্র, মাদক ও জাল নোট ভারতে পাচার করার ছক কষেছে জঙ্গিরা! পাশাপাশি সীমান্তের ছিদ্রপথে সন্ত্রাসবাদীদের এদেশে প্রবেশের রাস্তা তৈরি করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এই চিকেনস নেক টার্গেট পাকিস্তানেরও। এই অঞ্চলকে ভারতের থেকে আলাদা করে দিতে চায় চিনও। ওই কারণে ভারতীয় বিমান বাহিনীর জরুরি অপারেশনাল সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পাঁচটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ অথবা বিমানঘাঁটি চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে নয়াদিল্লি। এবার মাটির তলায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার স্ট্র্যাটেজিক রেল করিডর গড়ার কথা ঘোষণা রেল মন্ত্রকের।
ওই আন্ডার গ্রাউন্ড রেললাইন উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাকি দেশের যোগাযোগ অটুট রাখবে। এই স্ট্র্যাটেজিক করিডর তৈরি হচ্ছে চিকেনস নেকে। চিন, বাংলাদেশ কোনওভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টারর্সকে টার্গেট করলে, মাটির তলায় রেলপথেও যুদ্ধের রসদ পাঠাতে পারবে ভারত। অর্থাৎ মাটির উপরে রেলপথ ক্ষতিগ্রস্থ হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না উত্তর-পূর্বাঞ্চল। মাটির তলা দিয়ে সেনাবাহিনীর কাছে যুদ্ধের সরঞ্জাম, রসদ পৌঁছে যাবে। রেলের কর্তাদের কথায়, উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ মজবুত করতে ওই স্ট্র্যাটেজিক করিডরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
চিন, বাংলাদেশ কোনওভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টারর্সকে টার্গেট করলে, মাটির তলায় রেলপথেও যুদ্ধের রসদ পাঠাতে পারবে ভারত। অর্থাৎ মাটির উপরে রেলপথ ক্ষতিগ্রস্থ হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না উত্তর-পূর্বাঞ্চল।
মাটির উপরের ডবল লাইনকে ফোর লাইন করা হবে। রেল কর্তাদের কয়েকজন জানান, ওই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ছয় লাইনের স্ট্র্যাটেজিক করিডর হবে। এবার কেন্দ্রীয় বাজেটের অংশ হিসেবে আসাম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে রেল পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ১১ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চিকেনস নেক করিডোর বরাবর ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথ তৈরির কথা রয়েছে বলে খবর।
