মঙ্গলবার রাতে আচমকাই কেঁপে উঠল কলকাতা। রাত ৯টা বেজে ৫ মিনিট নাগাদ কেঁপে ওঠে কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকার মাটি। সঙ্গে সঙ্গেই পথে নেমে আসেন আমজনতা। প্রায় ১৫ সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কম্পনের উৎসস্থল মায়ানমার। উল্লেখ্য, গত ২১ নভেম্বরও কলকাতায় কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন তিব্বত এবং বাংলাদেশে ভূমিকম্প হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে বাংলাদেশে ৪.১ রিখটার স্কেলে কম্পন হয়। এদিন সকাল ১০টা নাগাদ তিব্বতেও ৩.২ মাত্রার কম্পন হয়। সেই ভূমিকম্পের রেশ অবশ্য কলকাতায় পড়েনি। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে মায়ানমারে ভূমিকম্প হতেই কেঁপে ওঠে তিলোত্তমাও। আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে পথে বেরিয়ে পড়েন আমজনতা। বাড়ির বাইরে থাকা প্রিয়জনদের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে ফোনও করতে থাকেন। অনেক জায়গায় ধাক্কা খায় ইন্টারনেট পরিষেবাও।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, রিখটার স্কেলে ৬.৪ মাত্রায় কম্পন হয়েছে মায়ানমারে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে কম্পনের উৎসস্থল। আকিয়াব শহর থেকে ৭০ মাইল দূরে কম্পনের উৎসস্থল, এমনটাই জানিয়েছে জার্মান রিসার্চ সেন্টার অফ জিওসায়েন্স। কলকাতা ছাড়াও ঢাকা এবং বাংলাদেশের বিরাট অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু এলাকাতেও কম্পন টের পেয়েছেন আমজনতা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, গত বছর নভেম্বর মাসে সাতসকালে কেঁপে উঠেছিল কলকাতা। সকাল ১০ টা বেজে ৮ মিনিট নাগাদ অনুভূত হয় কম্পন। কেঁপে ওঠে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রায় ৩০ সেকেণ্ড ধরে সেই কম্পন অনুভূত হয়েছিল। সেবার ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশের নরসিংদীর কাছে, মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে। তার প্রভাব পড়ে পশ্চিমবঙ্গে। কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭। এবারের কম্পনের তীব্রতা অনেকটাই বেশি। তবে কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গে এখনও ক্ষয়ক্ষতির খবর আসেনি। তবে কম্পনের ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন অনেকেই।
