সুব্রত বিশ্বাস: উত্তরপ্রদেশে ব্রাত্য। পশ্চিমবঙ্গে দেদার চাহিদা। তবে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ এ রাজ্যেও। তাতে কিছু অবশ্য আসে যায় না গোপন পাচারকারীদের। আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই রমরমিয়ে চলছে নিষিদ্ধ কচ্ছপ বেচা-কেনা। জোগান আসত ওই উত্তরপ্রদেশ থেকেই। রবিবার চন্দননগরে ডাউন দুন এক্সপ্রেসে অভিযান চালিয়ে মিলল সেরকমই ৪৬টি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ। উদ্ধার করল শেওড়াফুলির জিআরপি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাচারকারীকেও।
[ পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিনে শ্যামাপ্রসাদের বহুমুখী চিন্তা ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ ]
ওসি গোপাল গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জিআরপি তল্লাশি চালিয়ে কচ্ছপগুলি উদ্ধার করে। হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় পাচারকারীকেও। ধৃতের নাম তপন রায়। চুঁচুড়ার বাসিন্দা তপন লখনউ থেকে কচ্ছপগুলিকে নিয়ে আসছিল। উত্তর চব্বিশ পরগনার বিভিন্ন বাজারে বিক্রেতাদের কাছে কচ্ছপ জোগান দেয় সে। কচ্ছপগুলিকে ভিজে কাপড় জড়িয়ে ব্যাগে করে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। যদিও রেল পুলিশের চোখ এড়ানো সম্ভব হল না শেষমেশ। জানা যাচ্ছে, এই কচ্ছপ পাচারের কাজে তপনের হাতযশ বহুদিনের। উত্তরপ্রদেশে কচ্ছপের মাংসের চাহিদা নেই। তার উপর আইনি প্রতিবন্ধকতাও জোরদার। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় কচ্ছপ পাচার করে চলেছে ওই ব্যক্তি। উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কচ্ছপ ধরে সে এ রাজ্যে এনে বিক্রি করত। মাঝেমধ্যে সিআইডির তল্লাশিতে তা ধরা পড়লেও খুব একটা বিপাকে পড়তে হয়নি তাকে। আরপিএফ ও জিআরপির একাংশের সহযোগিতাতেই এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, বিপদ বুঝলেই বিভিন্ন স্টেশনে নামিয়ে সড়কপথে পাচার করা হত কচ্ছপগুলিকে। তবে সে শুধু একা নয়, পাচারের জন্য রয়েছে বড়সড় চক্র। যাদের মাধ্যমে কচ্ছপগুলি সরাসরি বাজারে পৌঁছে যেত। ওসি গোপালবাবু জানিয়েছেন, তপন রায়কে ধরে ব্যাগ তল্লাশি করেই কচ্ছপগুলিকে উদ্ধার করা হয়। আটক কচ্ছপগুলি ও ধৃতকে বন দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
[ পিকআপ ভ্যানে পচা মাংস ও ডিম পাচারের চেষ্টা, ধুন্ধুমার মেদিনীপুর শহরে ]
দেখুন ভিডিও-
The post দুন এক্সপ্রেস থেকে ধৃত পাচারকারী, উদ্ধার ৪৬টি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ appeared first on Sangbad Pratidin.
