জাহাঙ্গিরের বাবা আকবর খান ছিলেন বড় ওস্তাগর। বাবার কাছেই দর্জির কাজ শিখেছিলেন। পারিবারিক বিরাট ব্যবসা ওস্তাগরীর। তবে তারপরেও রাজনীতিতে পা রাখেন জাহাঙ্গির। ২০০৮ সাল থেকে বেলসিংহা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য হন। ২০১৩ সালে ওই পঞ্চায়েতের প্রধান হন জাহাঙ্গির (Jahangir Khan)। এরপর ২০১৪ সালে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ই একটু একটু করে অভিষেকের কাছে আসতে শুরু করেন জাহাঙ্গির। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডায়মন্ড হারবার লোকসভার তৃণমূল প্রার্থী হয়ে সাংসদ হন। আর তারপর থেকে জাহাঙ্গিরের রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়।
তারপর ২০১৮ সালে ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও পরবর্তীকালে ২০২৩ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হন। জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার আগেই জাহাঙ্গিরই অলিখিতভাবে জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের ভূমিকা পালন করেন। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শ্রীমন্ত বৈদ্যের মৃত্যুর পর ওই দপ্তরের অলিখিত দায়িত্ব সামলাতেন জাহাঙ্গিরই। এসবই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
গ্রেপ্তারির পর জাহাঙ্গির খান
বামেদের শক্ত ঘাঁটি ফলতা বিধানসভায় ২০০১ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হন তৃণমূলের তমোনাশ ঘোষ। এরপর ২০১১ ও ২০১৬ সালে তৃণমূল প্রার্থী হয়ে ফলতা বিধানসভায় বিধায়ক হন তিনি। তমোনাশ ঘোষের সঙ্গে অবশ্য তার আগে থেকেই জাহাঙ্গিরের বিরোধ শুরু হয়। ২০২১ সালে জাহাঙ্গিরের মনোনীত শংকর নস্করকে ফলতায় প্রার্থী করা হয়। শংকর নস্কর জয়লাভ করে বিধায়ক হন। বিধানসভা এলাকা চলত জাহাঙ্গিরের কথামতোই। বিধায়কও যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিতেন জাহাঙ্গিরের কথায়। এরপর ২০২৬ সালে শংকর নস্করকে সরিয়ে ফলতা কেন্দ্রে অভিষেক তাঁর 'ডান হাত' জাহাঙ্গিরকে প্রার্থী করেন।
তারপরের কাহিনি সকলেরই জানা। তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখতে উত্তরপ্রদেশে 'সিংহম' অজয় পাল শর্মাকে পাঠায় নির্বাচন কমিশন। যদিও নিজেকে 'পুষ্পা' বলে দাবি করেন জাহাঙ্গির। তাঁর 'ঝুঁকেগা নেহি' মন্তব্যে যেন আলোড়ন তৈরি হয়। ছাব্বিশের ভোটে একমাত্র ফলতাতেই পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করে কমিশন। ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান 'পুষ্পা'। কিন্তু নাম প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকায় ইভিএমে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম থেকে যায়। নির্বাচনের ফল বেরতে দেখা যায় জাহাঙ্গিরের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। তারপর থেকে অন্তরালে জাহাঙ্গির খান। অবশেষে বাংলা-নেপাল সীমান্ত থেকে বেঙ্গল এসটিএফের জালে 'পুষ্পা'। ফাঁসিদেওয়া থানায় রাখা হয় তাঁকে।
