সময়মতো আবেদন করে 'যোগ্য' প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও অন্নপূ্র্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) অর্থ হাতে পাননি, এই অভিযোগ রাজ্যের বহু মহিলার। সরকারের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩০০০ টাকা না পাওয়ায় বিক্ষোভ দিকে দিকে। এমনকী রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও সেই বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে রাজ্য প্রশাসনের পদাধিকারীরা বারবার আশ্বস্ত করেছেন, চিন্তা বা ক্ষোভের কারণ নেই। যোগ্যরা ঠিক অর্থ পাবেন। একটু সময় লাগবে। এবার অন্নপূর্ণা যোজনায় বিক্ষোভ নিয়ে নতুন কথা শোনা গেল বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) গলায়। গোটা পদ্ধতিতে বিচ্যুতি ঘটেছে, তা স্বীকার করেও শমীকের দাবি, ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা হয়েছে। তবে সকলেই টাকা পেয়ে যাবেন বলে আশ্বাস তাঁর।
শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘কিছু বিচ্যুতি আছে, সিস্টেমের সমস্যা। কোথাও কোথাও সাবোটাজ করার চেষ্টা হচ্ছে। তাই এমনটা হয়েছে। দেখুন, তৃণমূল আমলে পুরুষদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়ার মতো ভুয়ো কাজ এখানে হবে না। আমি বলছি, সবাই অন্নপূর্ণার টাকা পাবেন। এখন আরও প্রায় ৫০ লক্ষ মহিলাকে দেওয়া হবে। ২ থেকে ৩ শতাংশ টাকা পাননি। সবাই পেয়ে যাবেন।''
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের ১৫০০ টাকা পেতেন রাজ্যের সব মহিলা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, তাতে বিস্তর কারচুপি হয়েছে। নাম-পরিচয় গোপন করে পুরুষরাও সেই সুবিধা ভোগ করেছেন। পরে রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকার সেই প্রকল্প সুবিধা স্ক্রুটিনির মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করে দেয়। জানানো হয়, সকলে নন, যোগ্যরা এবার থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ বাবদ মাসে ৩ হাজার টাকা পাবেন। সেইমতো নতুন করে আবেদন জমা নেওয়া, স্ক্রুটিনি হয়। অনলাইনেও এই কাজ হয়। কিন্তু তাতেও জটিলতার শেষ নেই। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সরকারের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়, ২০ আগস্টের মধ্যে টাকা পাননি অনেক মহিলা। এই গন্ডগোলের কারণ কী? রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীরা এর নেপথ্যে তৃণমূল আমলের 'সিস্টেমের ত্রুটি'কে দায়ী করেছেন।
অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষদের সেই সুরই শোনা গেল শমীক ভট্টাচার্যের গলায়। রবিবার হাওড়ার এক অনুষ্ঠান থেকে বললেন, ‘‘কিছু বিচ্যুতি আছে, সিস্টেমের সমস্যা। কোথাও কোথাও সাবোটাজ করার চেষ্টা হচ্ছে। তাই এমনটা হয়েছে। দেখুন, তৃণমূল আমলে পুরুষদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়ার মতো ভুয়ো কাজ এখানে হবে না। আমি বলছি, সবাই অন্নপূর্ণার টাকা পাবেন। এখন আরও প্রায় ৫০ লক্ষ মহিলাকে দেওয়া হবে। ২ থেকে ৩ শতাংশ টাকা পাননি। সবাই পেয়ে যাবেন।'' তাঁর আরও ব্যাখ্যা, ‘‘দেখুন স্ক্রিনিং করতে হচ্ছে। বছরে ৩৬ হাজার টাকা তো কম টাকা নয়। এত লক্ষ পুরুষ! তারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিচ্ছেন। সরকারি কর্মচারী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। আপনারা কি এটা চান, যিনি স্কুলের শিক্ষিকা যাঁর বেতন ১ লক্ষ টাকার উপরে তিনিও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। তিনিও অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন। এটা কী চান? তো সোশাল ওয়েলফেয়ার প্রোজেক্ট তৈরি করা হয় মানুষের জন্য। তার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’’
