সুমিত বিশ্বাস: অহিরার গানে-গানে বনমহলের হাটে-বাজারে বাঁদনা বা সহরায়ের আবাহন করছেন লোকশিল্পীরা। এই ভাবেই গান গেয়ে বাঁদনার আগে অহিরা গীতের বই বিক্রি করে নিচ্ছেন তাঁরা। কালীপুজোর সময় থেকেই জঙ্গলমহলের জনপদে এখানকার চাষাবাদ করা মানুষজন বাঁদনা বা সহরায় পরবে মেতে ওঠেন। বলা যায়, ছোটনাগপুর মালভূমি এলাকার অন্যতম বড় উৎসব এই বাঁদনা বা সহরায়। মাহাতো, কুর্মি জনজাতিরা কালীপুজোর সময় এই কৃষিকেন্দ্রিক উৎসবে মাতে। এই উৎসবকেই আদিবাসীরা চলতি ভাষায় সহরায় বলে থাকে। বাঁদনা কালীপুজোর সময় হলেও সহরায় চলে প্রায় মকর সংক্রান্তির আগে পর্যন্ত। কারণ বিভিন্ন আদিবাসী মহল্লায় এই উৎসবের সময়সীমাও ভিন্ন। ফলে বনমহল পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর-সহ ঝাড়খণ্ডের একাংশে এখন শুধুই উৎসবের রঙ।
“অহিরে….এতদিন তো খালি বরদা/ বোঝা বোঝা ঘাস ওরে বাবু হো/ আজিকেত খাবেক ভেঁগুয়ান….।” হারমোনিয়াম, ঝুনঝুনি ও করতালের সুরে এই গান যখন কানে আসছে তখন যেন হৃদয়ে দোলা লাগছে। সেই গানের দিকেই ছুটছে মানুষজন। বইগুলো নেড়েচেড়ে কেউ কেউ কিনেও নিচ্ছেন। জঙ্গলমহলে সাধারণত মকর সংক্রান্তির সময় টুসু গানের বই বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু এবার বাঁদনার আগমনি গান অহিরার বইয়ের ভালই কাটতি রয়েছে হাটে। এই বই বিক্রিই প্রমাণ করে সোশ্যাল সাইট, ইউটিউবের বাজারে মাটির কাছাকাছি থাকা সংস্কৃতি এখনও হারিয়ে যায়নি।
[ট্রাফিক সচেতনতা বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ, রঙিন হল আসানসোলের রাস্তা]
আদিবাসী লোকাচারে অহিরা গো-বন্দনার গান। মানববন্ধনের গীত। সেই বন্ধন থেকেই বাঁদনা। এই গানের সঙ্গে উৎসব প্রকৃতি ও গবাদিপশুর নিবিড় বন্ধন রয়েছে। তাই তো ছোটনাগপুর মালভূমির সুদূর পূর্ব সিংভূমের পটমদা থেকে বান্দোয়ানের হাটে এই বই বিক্রি নিয়ে এসেছেন বেনীমাধব সিংহ। তাঁর সঙ্গে থাকা পাঁচ বন্ধু গান গেয়ে বই বিক্রি করছেন। কালীপুজোর আবহে অহিরার গান, বাঁদনা পরবের হাতছানিতে পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল।
[রেললাইনে ফাটল, শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় বিঘ্নিত ট্রেন চলাচল]
The post কালীপুজোর আবহে জঙ্গলমহলে অহিরার আগমনি, শুরু উৎসবের মরশুম appeared first on Sangbad Pratidin.
