দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: পরপুরুষের সঙ্গে প্রেমিকার অন্তরঙ্গ ছবি দেখে আত্মঘাতী একাদশ শ্রেণির ছাত্র। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত হুগলির চুঁচুড়া কারবালা মোড়। ঘটনার জানাজানি হওয়ার পরই প্রেমিকার বাড়ি এবং মামারবাড়িতে চড়াও হন স্থানীয়রা। উত্তেজনা চরমে পৌঁছলে দু’পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে চুঁচুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। উত্তেজিত জনতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মৃত জিৎ হালদার বাড়ি কারবালার কাছে নবাব বাগান এলাকার বাসিন্দা। মেধাবি ছাত্রটি জিৎ নামেই পরিচিত। হুগলি কলেজিয়েট গভঃ স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে সে। বর্তমানে জ্যোতিষ চন্দ্র বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্র জিৎ। কারবালার ১৬ বছর বয়সি একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে কিশোর জানতে পারে, তার প্রেমিকা অন্য যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। তাদের অন্তরঙ্গ ছবি ফাঁস হয়ে যায়। বুধবার গভীর রাতে জিৎ নিজের বাড়িতেই গলায় গামছার ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের লোকজন ঘরের ভিতরে ঢুকে জিৎকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। চুঁচুড়া থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠায়।
[আরও পড়ুন: আনিস হত্যাকাণ্ডে সিটের উপরেই আস্থা, দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ হাই কোর্টের]
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার কথা এলাকায় জানাজানি হয়। ক্ষিপ্ত জনতা ওই কিশোরীর খোঁজে তার বাড়িতে যায়। কিশোরীকে না পেয়ে তার মামার বাড়িতে চড়াও হয়। কিশোরীর বিরুদ্ধে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই ছাত্রকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। উত্তেজনা চরমে পৌঁছলে হাতাহাতি শুরু হয়। চুঁচুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
অন্যদিকে কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, একাদশ শ্রেণির ছাত্রের পরিবারের লোকজনেরা বাড়িতে চড়াও হয়ে তাদের মারধর করেছে। পালটা প্রতিবেশীরা যদিও সে দাবি খারিজ করে দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ছাত্রের মৃত্যুর বিচার চাই। ওই কিশোরীকে গ্রেপ্তার করতে হবে। চুঁচুড়া থানার পুলিশ জানায় বৃহস্পতিবার সন্ধে পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউই অভিযোগ দায়ের করেনি।
