শান্তিনিকেতনের বাটিক শিল্প (Batik Print) জিআই (জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন) ট্যাগ পেল চলতি বছরে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিল্পভাবনাতেই প্রাণ পেয়েছিল কাপড় রাঙানোর এই বিশেষ ধারা। ১৯২১ সালে দীর্ঘ বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে বাটিকশিল্পের চর্চায় মগ্ন হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ। আয়োজন করেছিলেন কর্মশালারও। ১৯২৭-এ জাভা সফরের সময় রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী হয়েছিলেন শিল্পী সুরেন কর ও ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ দেববর্মন। তাঁদের বাটিক তৈরির নিপুল শিল্পকৌশল মুগ্ধ করে জাভার রাজপরিবারকে।
সেখান থেকে শান্তিনিকেতনে ফেরার পর নন্দলাল বসুর সঙ্গে মিলিত প্রয়াসে তাঁরা জন্ম দেন আধুনিক বাটিকশিল্পের। বর্তমানে কমবেশি সকলের আলমারিতেই দেখা মেলে বাটিক প্রিন্টের শাড়ি, ফতুয়া, গায়ের চাদর।
শান্তিনিকেতনি বাটিক প্রিন্টের কাপড়।
এই প্রিন্টিং টেকনিক জটিল হলেও, ইচ্ছে থাকলে বাড়িতে বানানো যেতে পারে এর এক সহজ সংস্করণ।
যা যা লাগবে—
• সাদা সুতির কাপড় বা রুমাল
• মোম (প্যারাফিন ও মৌমাছির মোম মিশিয়ে নিলে ভালো)
• ফেব্রিক রং
• তুলি
• ইস্ত্রি
• খবরের কাগজ
• পেন্সিল
প্রণালী—
যে কাপড়ে বাটিক প্রিন্ট করতে চান, তা প্রথমে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। তাতে পেন্সিল দিয়ে ফুল, পাতা, আলপনা, পাখি বা জ্যামিতিক নকশা এঁকে নিন। মোম গলিয়ে নিয়ে, সরু তুলি বা কাঠির সাহায্যে নকশার উপর বুলিয়ে নিন। যেখানে মোমের পরত থাকবে, সেখানে রং ঢুকবে না— এই সোজা হিসেবটি মাথায় রাখতে হবে।
এবার কাপড় পছন্দের ফেব্রিক রঙে চুবিয়ে নিন। সম্পূর্ণ শুকিয়ে যেতে দিন। রং শুকিয়ে গেলে দুটি খবরের কাগজের মাঝে কাপড়টি বিছিয়ে, উপরের কাগজটির উপর দিয়ে ইস্ত্রি করুন। তাপে মোম গলে কাগজে উঠে আসবে। প্রয়োজন হলে কয়েকবার কাগজ বদলে একইভাবে ইস্ত্রি করুন।
এবার কাপড়টি ঠান্ডা জলে আলতো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। অতিরিক্ত ঘষার দরকার নেই। ব্যাস, আপনার ঘরে তৈরি বাটিক প্রিন্টের কাপড় তৈরি!
এ কাজে সফল হলে, পরে বড় কাপড় বা শাড়িতেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বাটিক প্রিন্ট করতে পারবেন।
বাড়িতেই বাটিক প্রিন্টের সহজ সংস্করণ, রুমালে আঁকা ফুলে মোম বোলানো চলছে।
নতুন শিল্পীদের জন্য কিছু টিপস—
• প্রথমে ছোট রুমাল বা স্কার্ফ দিয়ে অনুশীলন করুন।
• সবসময় সুতির কাপড় ব্যবহার করুন।
• গরম মোম ব্যবহার করার সময় তা বাড়ির ছোটদের দূরে রাখুন এবং নিজেও সাবধানতা অবলম্বন করুন।
জিআই স্বীকৃতিলব্ধ শান্তিনিকেতনের বাটিক শুধুমাত্র হস্তশিল্প নয়, বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচায়কও বটে। তাই বাড়িতে বাটিক প্রিন্ট করতে শেখা এক সৃজনশীল শখের পাশাপাশি, হয়ে ওঠে এক শতাব্দীপ্রাচীন শিল্পঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জরুরি উদ্যোগও।
