রাতারাতি কাস্তে-হাতুড়ি ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন ঘাসফুল শিবিরে। যার জেরে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিলেন প্রাক্তন বামনেতা প্রতীক-উর রহমান। অনেকেই বলেছিল, বামেরা আর ফিরবে না, তাই ক্ষমতার লোভেই এই দলবদল। কারণ যাই হোক না কেন, প্রতীক-উর যোগ দেওয়ার পরই কার্যত ধস নামল তৃণমূলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের হাতছাড়া হল বাংলা। তা নিয়ে প্রতীক-উরকে কটাক্ষ করছেন অনেকেই। এরই মাঝে আজ, রবিবার প্রতীক-উরের জন্মদিন। কঠিন সময় ঠিক কেটে যাবে, সোশাল মিডিয়া পোস্টে স্বামীকে চাঙ্গা করতে একথাই লিখলেন প্রতীক-জায়া শিরিন সুলতানা।
ছাত্রজীবনেই বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন প্রতীক-উর রহমান। পরবর্তীতে সিপিএমের তরুণ নেতাদের মধ্যে একজন হয়ে ওঠেন। রাজ্য ও জেলা কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছিলেন। বহু আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। চব্বিশের লোকসভায় ডায়মন্ড হারবার আসনে তাঁকে প্রার্থী করেছিল সিপিএম। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে আচমকাই তিনি দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। কয়েকদিনের মধ্যেই দল ছেড়ে যোগ দেন তৃণমূলে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নেন তিনি। এরপর যে তৃণমূলের বিরোধিতায় সরব হতেন, তাঁদের কথাই তুলে ধরেন মানুষের কাছে। এই দলবদল নিয়ে কম কাটাছেঁড়া হয়নি। একাংশ বলেছে, অর্থের বিনিময়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তিনি। কেউ আবার বলেছেন, পদের লোভে দল ছেড়েছেন প্রতীক-উর।
ছাব্বিশে তৃণমূল ফের ক্ষমতায় আসীন হলে প্রতীক-উপ পদ পেতেন কি না, তা এখন আর বলা সম্ভব নয়। তবে তৃণমূলের এই বিপর্যয় যে প্রতীক-উর রাজনৈতিক কেরিয়ারেও বড় ধাক্কা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকে আর দেখা যায়নি তাঁকে। তৃণমূল মুখপাত্রের দায়িত্ব দিলেও সংবাদমাধ্যমের সামনে একটি শব্দও খরচ করেননি তিনি। রবিবার জন্মদিন উপলক্ষে স্বামীকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েও কঠিন সময়ের কথাই উল্লেখ করলেন প্রতীক-পত্নী শিরিন। লিখলেন, 'সময় খুব কঠিন, জানি কাটিয়ে উঠবে। শুভেচ্ছা রইল।' সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সে কটাক্ষের বন্যা। কেউ লিখেছন, 'এবার দেখতে বলুন বিজেপি নেয় কিনা, বা অন্য কোনও দল, কারণ ওই দলটা তো আর থাকবেই না।' কেউ আবার লিখেছেন, 'অনেক টাকা পেয়েছিস, এবার একটু ঘুরে নে।' তবে এবার প্রতীক-উর কী পদক্ষেপ করেন, সেদিকে তাকিয়ে সকলেই।
