এসআইআর (SIR in West Bengal)-এর ট্রাইব্যুনালে যাবতীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও নাম ওঠেনি ভোটার তালিকায়। জীবনের শেষ দিনগুলো ডিটেনশন ক্যাম্পে কাটাতে হবে - এই আতঙ্কে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন আরামবাগের ৬ বাসিন্দা। সোমবার আরামবাগের মহকুমা শাসকের অফিসে গিয়ে তাঁর মাধ্যমে এই আবেদন করলেন। তাও বেশ অভিনব। এদিন সারা গায়ে নিজেদের নথি সেঁটে প্রাক্তন শিক্ষিকা তইবুন্নেসা বেগম-সহ বাকি সদস্যরা যান মহকুমা শাসকের দপ্তরে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে যথারীতি রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়ে গিয়েছে। জেলা বিজেপির নেতা যথেষ্ট কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলছেন, “এসব নাটক। কেউ মৃত্যু চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন কেন? এসবের নেপথ্যে শাসকদল।'' তৃণমূলের পালটা দাবি, “এসআইআর নিয়ে আমরাই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।''
তইবুন্নেসার কথায়, “আমি সরকারি কর্মী ছিলাম, এখন পেনশন পাই। আমার পাসপোর্ট আছে, বাইরেও গিয়েছি। এত বছর ধরে ভোট দিয়েছি। তারপরও নাকি আমার নাম ভোটার তালিকায় তোলা যাচ্ছে না। আর কী নথি দিলে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে? এখন নাম না থাকলে যদি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়, তার থেকে মৃত্যুই শ্রেয়। আমরা তাই মহকুমা শাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানাচ্ছি।''
জানা যাচ্ছে, আরামবাগ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তইবুন্নেসা বেগম স্থানীয় হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। গোঘাট ভগবতী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পদে মোট ৩৪ বছর সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। শেষ ২০ বছর প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব সামলেছেন। এখন তিনি সরকারি পেনশন পান। তইবুন্নেসা বেগমের স্বামী আরামবাগ গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ। তাঁর নিজেরও পেনশনের কাগজপত্র আছে। পাসপোর্ট-সহ যাবতীয় তথ্য থাকা সত্ত্বেও নাম বাতিল হয়ে গিয়েছে। জীবনের শেষ ভাগে এসে এই হয়রানি তাঁরা সহ্য করতে পারছেন না। শুধু তইবুন্নেসা বা তাঁর স্বামীর নামই নয়। আরামবাগের এই ওয়ার্ডের ২০৬ জনের নাম বাতিল হয়েছে এসআইআরে। তাঁদের মধ্যেই ৬ জন এদিন স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের আবেদন করেছেন।
তইবুন্নেসা বেগম ৩৪ বছর ধরে সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন, এখন পেনশনপ্রাপক।
বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত ঘোষের দাবি, “নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা। তারা কী কাজ করছে না করছে, সেটা তো তারাই জানে। সেই কাজে যে ভুল হচ্ছে, তার দায় রাজ্যের তরফে যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেনস, তাঁদের দায়। তাঁরাই মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। আর নাম বাদ গিয়েছে বলে যাঁরা স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানাচ্ছে, তাঁরা নাটক করছেন। এঁদের পিছনে কেউ না কেউ আছে। কেউ মৃত্যু চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করার কী আছে?''
এদিন তাঁদের সঙ্গে মহকুমা শাসকের দপ্তরে যান ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার স্বপন নন্দীও। আবেদনকারীদের দাবি, স্বাধীন দেশে জন্মগ্রহণ করেও বর্তমানে যেন তাঁরা নতুন করে পরাধীন হয়ে পড়েছেন। তইবুন্নেসার কথায়, “আমি সরকারি কর্মী ছিলাম, এখন পেনশন পাই। আমার পাসপোর্ট আছে, বাইরেও গিয়েছি। এত বছর ধরে ভোট দিয়েছি। তারপরও নাকি আমার নাম ভোটার তালিকায় তোলা যাচ্ছে না। আর কী নথি দিলে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে? এখন নাম না থাকলে যদি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়, তার থেকে মৃত্যুই শ্রেয়। আমরা তাই মহকুমা শাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানাচ্ছি।''
এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত ঘোষের দাবি, “নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা। তারা কী কাজ করছে না করছে, সেটা তো তারাই জানে। সেই কাজে যে ভুল হচ্ছে, তার দায় রাজ্যের তরফে যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেনস, তাঁদের দায়। তাঁরাই মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। আর নাম বাদ গিয়েছে বলে যাঁরা স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানাচ্ছে, তাঁরা নাটক করছেন। এঁদের পিছনে কেউ না কেউ আছে। কেউ মৃত্যু চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করার কী আছে?'' তৃণমূলের দাবি, “বিজেপি নেতার কথা পুরোপুরি ভুল। এসআইআর ইস্যুতে আমরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।''
