হরমুজের (Strait Of Hormuz) তালা ঝোলানোর ইরানি কূটনৈতিক চালে দিশাহারা আমেরিকা (US Iran)। এর পালটা ইরানের বন্দর অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে পালটা হুমকি এল তেহরানের তরফে। আমেরিকাকে 'জলদস্যু' বলে তোপ দেগে তেহরান জানাল, 'ইরানের বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের একটিও বন্দর নিরাপদ থাকবে না।'
পাকিস্তানে ইরান ও আমেরিকার শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর আর্থিকভাবে তেহরানকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, 'আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে অবৈধভাবে শুল্ক দেওয়া যেকোনো হাজাজকে আটক করবে মার্কিন সেনা। অবৈধভাবে ইরানকে শুল্ক দেওয়া কেউই সমুদ্রে নিরাপদ নয়। যদি ইরান আমাদের বা জাহাজের উপর হামলা করে তবে ওদের নরকে পাঠানো হবে।' পাশাপাশি মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড ঘোষণা করেছে, ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা অবরোধ করবে তারা। ইরানের সময় অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৫টা থেকে লাগু হচ্ছে এই নিয়ম।
'এই অঞ্চলের বন্দরগুলির নিরাপত্তা হয় সবার জন্য থাকবে, নাহলে কারও জন্য থাকবে না। যদি ইরানের বন্দরকে নিশানা করা হয়, তবে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের কোনও বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।'
আমেরিকার এহেন হুঁশিয়ারির পরই মুখ খুলেছে ইরান। বন্দর অবরোধের পালটা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। মার্কিন সেনার এই পদক্ষেপকে 'অবৈধ ও জলদস্যুতার শামিল' বলে তোপ দেগে ইরান জানায়, 'যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান। শত্রুপক্ষ বা তাদের কোনও জাহাজকে ইরানের জলসীমা অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।' পাশাপাশি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও জানানো হয়েছে, 'এই অঞ্চলের বন্দরগুলির নিরাপত্তা হয় সবার জন্য থাকবে, নাহলে কারও জন্য থাকবে না। যদি ইরানের বন্দরকে নিশানা করা হয়, তবে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের কোনও বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।'
এদিকে আমেরিকার এহেন পদক্ষেপের নিন্দায় সরব হয়েছে রাশিয়াও। মস্কোর তরফে জানানো হয়েছে, আমেরিকা যদি হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে তবে বিশ্ববাজারে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, ট্রাম্প যে নির্দেশ দিয়েছেন সেই নির্দেশের একাধিক দিক অস্পষ্ট।
