ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। বিএলও থেকে ভোটারদের মৃত্যু! কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ আধিকারিকদের। রাজনৈতিক নেতাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছেই। সেই তালিকায় নাম লেখালেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু টুডু। একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে পিটিয়ে বিজেপি নেতাদের ছালচামড়া গুটিয়ে নেওয়ার হুমকি দিলেন তিনি। বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সৌম্যরাজ বন্দোপাধ্যায় পালটা বলেন, "চুরি আর মারধর তৃণমূলের সাধারণ প্রবৃত্তি।"
আজ, রবিবার বর্ধমান-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় ভিটা হাই স্কুল মাঠে সভা ছিল। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, পূর্ব বর্ধমান জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি রাসবিহারী হালদার-সহ অন্যান্য শাখা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সেখানেই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু টুডু। বলেন, "অযৌক্তিক, অসাংবিধানিকভাবে ভোটারদের বাদ দিলে আমরা ছাড়ব না। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ধরতে যাব না। একটা বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে বিজেপি নেতাদের পিটিয়ে ছালচামড়া তুলে নেব। আমরা ভারতবর্ষের আদিজাতি। আমাদের নাম দেবে?" তিনি আরও বলেন, "ইলেকশন কমিশন বিজেপির কথায় চলছে। অযৌক্তিক, অবৈধভাবে ভোটারদের নাম বাদ দিতে চাইছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিজেপির দালাল।"
তৃণমূলের সভা। নিজস্ব চিত্র
এসআইআর নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি ভোটের আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সক্রিয়তা নিয়েও বিজেপি বিঁধেছেন তিনি। ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানার ঘটনায় তিনি বলেন, "ইডি-সিবিআইয়ের অভিযান শুরু হলেই বোঝা যায় বাংলায় ভোট এসেছে। আমার যখন ঘুমিয়ে সেই সময় আইপ্যাকের অফিসে হানা দিল ইডি। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রুখে দাঁড়িয়েছেন। বাংলা মানুষের হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।"
টুডুবাবুর পালটা দিয়েছে বিজেপি। বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সৌম্যরাজ বন্দোপাধ্যায় জানান, "চুরি আর মারধর তৃণমূলের সাধারণ প্রবৃত্তি। তৃণমূল ১৫ বছর মারধর করেই রাজ্যে চালাচ্ছে। এই ধরনের কথা যিনি বলছেন তাঁর পিঠের চামড়া থাকবে কি না, সেটা আগে দেখুক।" ইডির অভিযান নিয়ে তিনি বলেন, "পুলিশ চোর ধরতে যাওয়ার আগে কি চোরকে জানিয়ে যায়? ইডি তল্লাশি করতে যাওয়ায় আগে জানিয়ে যাবে না। যাদের ন্যূনতম বোধ নেই তারা এই ধরনের যুক্তি দেন।"
