শুক্রবার রাতে ২০ লক্ষ বিবেচনাধীনের নাম নিয়ে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হয়েছে। এরপরই রাজ্যের একাধিক জায়গায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন আমজনতা। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে শনিবার সকালে মাখালগাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের মুড়াগাছায় বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়। আবার বিকেলে হাসনাবাদ পঞ্চায়েতের বাদামতলায় বিক্ষোভ দেখান মানুষ। অন্যদিকে, এসআইআর প্রত্যাহারের দাবিতে ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং। মতুয়া অধ্যুষিত গাইঘাটার চাঁদপাড়ায় একটি বুথে ১৮৩ জনের নাম বাদ চলে গিয়েছে। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মতুয়ারা।
হাবাসপুর দক্ষিণপাড়া, উত্তরপাড়া, হরিকাটি-সহ একাধিক এলাকায় কয়েকশো মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। বসিরহাট উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত মাখালগাছা এলাকার মাত্র দুটি বুথ থেকে প্রায় ৬৫০ জনের নাম বাদ গিয়েছে। এর জেরে গ্রামবাসীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে মাখালগাছার হাবাসপুর ব্রিজের সামনে কয়েকশো মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভে শামিল হন। সকাল ৮টা নাগাদ হাসনাবাদ রোড অবরোধ করে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয়। ফলে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে।বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবিলম্বে তাঁদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উত্তেজনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় হাসনাবাদ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এসডিপিও ওমর আলী মোল্লা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। প্রায় দু’ঘণ্টা পর প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা, স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। বিকেলে হাসনাবাদ পঞ্চায়েতের বাদামতলাতেও বিক্ষোভে শামিল হন এলাকাবাসী। এই সব বিক্ষোভের ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অন্যদিকে, শনিবার ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ডোরিনা ক্রসিং। নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের উদ্দেশে মিছিল করে যাওয়ার সময় পুলিশি বাধার মুখে পড়েন মঞ্চের সদস্যরা। এরপরই শুরু হয় দুই পক্ষের ধস্তাধস্তি। এই ঘটনায় এক পুলিশ আধিকারিকের হাতে চোট লাগে। জানা গিয়েছে, ওয়াই চ্যানেল পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি ছিল ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চের। মিছিলটি তার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ।
পাশাপাশি, গাইঘাটার চাঁদপাড়ার একটি বুথে বিবেচনাধীন ১৮৬ জনের মধ্যে ১৮৩ জনের নামই বাদ চলে গিয়েছে৷ এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন মতুয়ারা ৷ তাঁরা বলেন, "কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর জানিয়েছিলেন কোনও হিন্দু মতুয়া উদ্বাস্তুর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না ৷ তাঁকে মন থেকে ভরসা করেছিলাম আমরা ৷ কিন্তু তাহলে কেন আমাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেল ৷ এর জবাব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দিতে হবে ৷"
