সম্যক খান ও টিটুন মল্লিক, খড়্গপুর ও বাঁকুড়া: ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী হামলায় মারা গিয়েছেন সিআরপিএফ জওয়ান এএসআই সুনীল মণ্ডল। জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি পার্থপ্রতিম দে। দুজনেই বাংলার দুই জেলার বাসিন্দা। সুনীল মণ্ডলের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় থানার গাছউপড়া গ্রামে। পার্থপ্রতিম দের বাড়ি বাঁকুড়া জেলায়। দুই বাড়িতেই দুঃসংবাদ আসে শনিবার রাতে।

সুনীল মণ্ডলের মৃত্যুসংবাদ পরিবারের কাছে পৌঁছতেই কান্নার রোল উঠেছে। ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ হয়ে মারা গিয়েছেন তিনি। বাড়িতে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী মণ্ডল ও তিন ছেলে এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে বলে খবর। স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই কেঁদে চলেছেন স্ত্রী। আজ রবিবার রাতেই মৃতদেহ গ্রামে এসে পৌঁছনোর কথা। গ্রামেরই একটি জায়গায় গান স্যালুট দেওয়া হবে। সেজন্য জায়গাটি প্রস্তুতও হয়েছে বলে খবর। প্রশাসন ও শাসক দলের লোকজন এদিন বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে খবর।
মাঝবয়সী সুনীল মণ্ডল অত্যন্ত মিশুকে ছিলেন বলে খবর। গ্রামের অন্যান্যদের সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। দেশের জন্য শহিদ হতে তিনি গর্ব অনুভব করতেন। তেমনই জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাকুড়া জেলার রাজগ্রাম এলাকার বাসিন্দা পার্থপ্রতিম দে। তিনিও বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনা জানার পর থেকেই উদ্বেগে রয়েছেন। তিনি রাঁচির একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ওই জওয়ানের হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে খবর। তাঁর স্ত্রী পিয়ালী দে জানিয়েছেন, গতকাল রাতেই ঘটনার কথা জানা যায়। সুস্থ হয়ে বাড়িতে তিনি ফিরে আসুক। তাই চাইছেন স্ত্রী।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার পশ্চিম সিংভূম জেলার ছোটানাগরা থানার অন্তর্গত মারাংপোঙ্গার টহল দিচ্ছিলেন সিআরপিএফ জওয়ানরা। সেসময় মাওবাদীরা এই আইডি বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলায় গুরুতর জখন হন দুই সিআরপিএফ জওয়ান। তড়িঘড়ি তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসা চলাকালীন প্রাণ হারান সিআরপিএফ জওয়ান সুনীল মণ্ডল।