দেবব্রত মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: “গলায় দড়ি পরেছি। এবার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করব। তুমি যদি এখনই বাড়ি না আসো তাহলে আগামিকাল সকালে তুমি এসে আমায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখবে। যে ঘরে তোমার আমার প্রথম রাত কেটেছিল, সেই ঘরেই।” স্ত্রীর হোয়াটসঅ্যাপে এই ম্যাসেজই পাঠিয়েছিলেন স্বামী। বউকে বিশ্বাস করাতে তুললেন গলায় ফাঁস দেওয়ার ছবিও। পাঠিয়ে দিলেন স্ত্রীর মোবাইলে। তারপর?
এক্কেবারে হিন্দি ছবির চিত্রনাট্য। কিন্তু হল বাস্তবের মাটিতে। ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানার হেমন্ত পল্লির। মোবাইলে ছবিটি দেখে প্রথমে স্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। তবে পরে ফোন করেন স্বামীকে। অন্য প্রান্ত থেকে স্বামীর বলেন, বাপের বাড়ি থেকে এই মূহূর্তে ফিরতে হবে। নাহলে চরম সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। এরপরই ভয় পেয়ে যান স্ত্রী। স্বামীকে এই চরম কাজ থেকে বিরত করার চেষ্টা করেন বারবার। কিন্তু কথা শোনেননি তিনি। অগত্যা শ্বশুরমশাইকে ফোন করেন মহিলা। ছেলের পাগলামি ভেবে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি বাবাও। আর তাতেই পালে বাঘ পড়ার মতো ঘটনা ঘটে। সকালে দরজা খুলে দেখেন ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছেন বাড়ির ছেলে। স্ত্রীকে পাঠানো মেসেজ যে এইভাবে অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাবে বুঝতে পারেননি কেউই। ঘটনায় হতবাক সকলেই। শোকের ছায়া নেমেছে পরিবারে।
[শাসকদলের কারসাজি! বীরভূমে মনোনয়ন পেশ ১৩ জন ‘ভূতুড়ে’ প্রার্থীর]
নিহতের নাম বাপি ঘোষ (৩৫)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, বছর আটেক আগে পুজোর সময় স্ত্রী বিনতার সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল তাঁর। তারপর প্রেম। দুই পরিবারের সম্মতিতেই হয়েছিল বিয়ে। সুন্দরী বউকে চোখে হারাতেন বাপি। বউ চোখের বাইরে গেলেই ঠিক থাকতে পারতেন না স্বামী। আর সেই থেকেই জন্ম নিয়েছিল ঈর্ষা। স্ত্রী মোবাইলে কথা বললে দেখতেন সন্দেহের চোখে। রবিবার স্ত্রী বিনতা মণ্ডল জীবনতলা থানার মঠেরদিঘি গ্রামে যান বাপের বাড়ির একটি অনুষ্ঠানে। সোমবার রাত আড়াইটার সময় ফোন করে বাপি স্ত্রীকে বাড়ি ফিরতে বলেন। স্ত্রী কথা না শোনাতেই ঘটে যায় এত বড় ঘটনা। ওই দম্পতির একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে মাঝে মধ্যে গন্ডগোল লেগে থাকত। বিনতা দেবী বলেন, “মদ্যপ অবস্থায় মারধরও করতেন তিনি। তাছাড়া আমাকে ভীষণ ভালবাসত। আমি চোখের সামনে না থাকলেই মাথা গরম হয়ে যেত। আর তাতেই বাধত অশান্তি। সোমবার হঠাৎ ফোন করে এই কাণ্ড ঘটাল। এদিনও মদ খেয়ে ছিল বলে আমার ধারণা।”
ঘটনার খবর পেয়ে ক্যানিং থানার পুলিশ গিয়ে বাপির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। যে মোবাইল থেকে স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে জীবনের শেষ ছবি পাঠিয়েছিলেন, তা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কী কারণে এই আত্মহত্যা তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
[বিহার-উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের জন্যই দেশ পিছোচ্ছে, বিস্ফোরক নীতি আয়োগের সিইও]
The post গলায় ফাঁস লাগানোর ছবি স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে আত্মঘাতী স্বামী appeared first on Sangbad Pratidin.
