মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির লক্ষ্যে ইরান ও আমেরিকার প্রাথমিক মউ স্বাক্ষর হয়েছিল বুধবার। কিন্তু সেই শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা যেন ভেস্তে গেল শুক্রবারই। ইরান ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল। এর নেপথ্যে অবশ্যই ইজরায়েল। যুদ্ধবিরতির পরও তেল আভিভ লাগাতার হামলা চালাচ্ছে লেবাননে। আর এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ তেহরান ফের হরমুজ বন্ধ করে দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলল।
এদিকে এদিনই আমেরিকা সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকমের তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ সম্পূর্ণরূপে তুলে নিয়েছে তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নির্দেশেই এহেন পদক্ষেপ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু এমতাবস্থায় ইজরায়েলের কারণেই ফের বিশ বাঁও জলে শান্তি সম্ভাবনা।
এমন যে হতে পারে সেটা অবশ্য মনে করাই হচ্ছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উদ্দেশে যে বার্তা দেন, তাতেই আশঙ্কার মেঘ আরও কালো হয়েছিল। উল্লেখ্য, ইরান-আমেরিকার শান্তির লক্ষ্যে ১৪টি শর্তের উপর মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইরান, লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অংশে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। নতুন করে কোনও যুদ্ধ হবে না সেই গ্যারান্টি দেবে ইজরায়েল ও আমেরিকা। ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন, যেন লেবানন ইস্যুতে আরও বেশি দায়িত্ব নেন তিনি। কিন্তু দক্ষিণ লেবানন ও বেইরুটে ইজরায়েলের বোমা বর্ষণ চলছেই। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এহেন পরিস্থিতিতে শেষপর্যন্ত কি চুক্তি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে? ইরান যে এটা ভালোভাবে নিচ্ছে না তা পরিষ্কার এদিনের পদক্ষেপে।
ট্রাম্পের মতে, যদি ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকে তাহলে ইজরায়েল ঘণ্টা দুয়েকও টিকতে পারবে না। সব মিলিয়ে লেবানন-কাঁটা সরাতে না পারলে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না, সেটা ভালোই বুঝছেন ট্রাম্প। আপাতত সুর নরম করেই ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ সম্পূর্ণরূপে তুলে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু হরমুজ ফের বন্ধ করে ইরান যেন বুঝিয়ে দিল, ইজরায়েল লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে পরিস্থিতি শুধরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
