রাজা দাস, বালুরঘাট: ভোট পরবর্তী হিংসায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলল বিরোধীরা। নির্বাচন মিটলেও হিংসার ঘটনা এখনও অব্যাহত দক্ষিণ দিনাজপুরে। বালুরঘাট থেকে হরিরামপুর, সব ব্লকেই বিরোধী বাম ও বিজেপির উপর হামলার অভিযোগ উঠছে। অভিযোগের তির শাসকদলের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ভয়ে ঘর ছাড়া অন্তত ৩০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে অনত্র। আক্রান্ত পরিবারগুলির দাবি, ভোটে শাসক বিরোধী প্রচার, ছাপ্পার প্রতিবাদের কারণেই এই রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ, আক্রান্ত হলেও পুলিশ কিছুই করছে না। হামলার ভয়ে ঘর ছেড়েছেন স্থানীয় ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির বুথ সভাপতি উৎপল মণ্ডল। তিনি বলেন, তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের ভয়ে এখনও ঘরে ফিরতে পারছেন না। পুলিশকে জানিয়েও লাভ হয়নি। পুলিশের সামনেই চলছে হামলা। বাড়িঘর বলে কিছুই রাখেনি হামলাকারীরা। সংসার পরিজন নিয়ে বাইরে বাইরে অসহায় হয়ে ঘুরছেন।
[ফল ঘোষণার দিন থেকে নিখোঁজ, অবশেষে বাড়ি ফিরলেন পঞ্চায়েতে জয়ী বিজেপি প্রার্থী]
উল্লেখ্য, ভোট মিটলেও আতঙ্কের ছবি বর্তমান। জেলার বালুরঘাট ব্লকের ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত খিদিরপুর, চরপাড়া ও হরিরামপুর থানার সৈয়দপুর অঞ্চলের চারটি মৌজা এলাকায় তাড়া করে ফিরছে আতঙ্ক। এই পশ্চিম খিদিরপুর চরপাড়া সংসদের তিন নম্বর বুথের ভোটার সংখ্যা ৭৮১। অভিযোগ, নির্বাচনের দিন সেই বুথেই চলছিল ছাপ্পা দেওয়ার কাজ। বিজেপি প্রার্থী-সহ দলীয় কর্মীরা এই ঘটনার প্রতিবাদও করেন। ভোটপর্ব পর্যন্ত এলাকা শান্তই ছিল। তবে ব্যালট বাক্স নিয়ে ভোটকর্মীরা চলে যেতেই গভীর রাতে বাইক নিয়ে এলাকায় ঢোকে দুষ্কৃতী দল। প্রথমেই বিজেপি প্রার্থী পম্পা শীলের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। হামলার খবর পেয়ে ততক্ষণে স্বামী সন্তানদের নিয়ে এলাকা ছেড়েছেন প্রার্থী। এদিকে প্রার্থীকে না পেয়ে প্রতিবেশী বিজেপির বুথ সভাপতি উৎপল মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। দুষ্কৃতীদের রোষ থেকে ছাড় পাননি বিজেপি সমর্থক রিনা সেনও। তাঁর বাড়িতেও ভাঙচুর চলে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, এখনও নিয়মিত ওই এলাকায় হামলা চালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। প্রাণ ২০টি পরিবার বাড়ি ছাড়া। কেউ কেউ বালুরঘাট শহরের বিজেপি কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন। কেউ বা আবার অন্যত্র থাকছেন।
বাম-কংগ্রেস জোটের ছাপও পড়ল না গ্রামীণ হাওড়ায়, জয় তৃণমূলেরই
একই সমস্যা হরিরামপুরেও। এখানকার সৈয়দপুর অঞ্চলে চলছে হামলা রাজ। গ্রাম পঞ্চায়েত আসনটি দখলে না আসায় বামপন্থী কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে নিত্য হামলার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনায় অভিযোগের তির তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এখানকার ১৭টি আসনের মধ্যে ১০টি সিপিএম, দুটি নির্দল, একটি বিজেপি ও দুটি তৃণমূল পেয়েছে। বাকি দুটি বুথ আবাতপুর ও খয়েরবাড়িতে সিপিএম জয়ী হলেও তা মানতে নারাজ তৃণমূল। অভিযোগ, তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী গণনাকেন্দ্র থেকে বামকর্মীদের বের করে দিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ জানাতেই এই দুটি বুথের ফল প্রকাশ স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগ, শনিবার এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল নেতা হাতেম আলির নেতৃত্বে দুষ্কৃতীরা এককাট্টা হয়। এলাকার বামপন্থী কর্মী সমর্থকদের বাড়ি, দোকান-সহ মোটরবাইক ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। আতঙ্ক ছড়িয়ে পরতেই বামকর্মী সমর্থকদের পরিবারগুলো এলাকা ছেড়ে চলে যান। এখন প্রায় নৈরাজ্যের চেহারা নিয়েছে ভাটপাড়া হরিরামপুর এলাকা। এই প্রসঙ্গে এলাকার বাম কর্মী জামশেদ আলি বলেন, তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের ভয়ে গ্রামে এখনও লোকজন আসতে পারছেন না। ভয়ে সবাই প্রায় গ্রাম ছেড়েছেন। অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার না করলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামারও হুমকি দেন তিনি।
ছবি: রতন দে
The post ভোট পরবর্তী হিংসায় ঘর ছাড়া বিরোধীরা, অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে appeared first on Sangbad Pratidin.
