সৌরভ মাজি, বর্ধমান: বাড়ি থেকে ঠিক পাত্রকে বিয়ে কর। না হয় প্রেমিককেই কর। দেরি করা যাবে না। প্রেমিকের জন্য তিন বছর অপেক্ষা করা যাবে না। বাবার কড়া নির্দেশ।
বাবার ঠিক করা পাত্র না কি প্রেমিক কাকে বিয়ে করবেন, এই নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে শেষ পর্যন্ত চরম সিদ্ধান্ত নিলেন এক কলেজ ছাত্রী। গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বীরভূমের নানুরের খুজুটিপাড়া কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী দেবযানী ঘোষ (২০) কয়েকদিন আগে অগ্নিদগ্ধ হন। মঙ্গলবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। ছাত্রীর বাড়ি নানুরের গণ্যাসেরাণ্ডি গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ এপ্রিল বাড়িতেই তিনি গায়ে আগুন ধরিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁকে প্রথমে বোলপুরের সিয়ানে মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিনই তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
[প্রেমিককে বেঁধে রেখে কিশোরীকে গণধর্ষণ, আলিপুরদুয়ারে চাঞ্চল্য]
ওই ছাত্রীর বাবা দোনাই ঘোষ, মা চৈতালি ঘোষ এদিন বর্ধমান মেডিক্যালের মর্গে এসেছিলেন। তাঁরা জানান, কলেজেরই এক সহপাঠী তন্ময় সাহার সঙ্গে দুই বছর ধরে সম্পর্ক ছিল তাঁদের মেয়ের। ওই ছাত্রর বাড়ি তাঁদেরই গ্রামে। এই সম্পর্কের কথা তাঁরা প্রথমে জানতেন না। দোনাইবাবু সম্প্রতি মেয়ের বিয়ের ঠিক করেন। পাত্রপক্ষ দেখে পছন্দও করে যায়। তখন দেবযানী তার প্রেমিকের কথা বাড়িতে জানায়। তন্ময়কে বিযে করতে চান বলেও জানান। তখন দোনাইবাবু তন্ময় ও তাঁর বাবা তরুণ সাহার সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা দোনাইবাবুকে জানান, বিয়ে দিতে চাইলে তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। তরুণবাবুর ছেলে পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ালে তবে তাঁরা বিয়ে দেবেন।
দোনাইবাবু তা মানতে চাননি। তিনি মেয়েকে সাফ জানিয়ে দেন তাঁর ঠিক করা পাত্রকেই বিয়ে করতে হবে। প্রেমিকের পরিবারের দাবি মতো তিন বছর তিনি অপেক্ষা করতে পারবেন না। দেবযানী তন্ময়কে বিয়ে করতে চাইলে তাঁদেরকে বলে যেন তাড়াতাড়ি বিয়ের আয়োজন করার কথা জানান। দেবযানী তন্ময়দের বাড়ি চলে যান। সেখানে একদিন ছিলেনও। কিন্তু পরদিনই তরুণবাবু দোনাইবাবুকে ডেকে মেয়েকে নিয়ে যেতে বলেন। তিন বছর পর তরুণবাবু ছেলের বিয়ে দেবেন বলেও ফের জানিয়ে দেন দোনাইবাবুকে। তিনি গিয়ে মেয়েকে বাড়ি ফিরয়ে নিয়ে আসেন।
[আসানসোলে দুই শিশুকন্যাকে যৌন নিগ্রহ, ধৃত নাবালক-সহ ৩]
দোনাইবাবু এদিন বলেন, “মেয়েকে বলেছিলাম তন্ময়দের দাবি মতো তিন বছর অপেক্ষা করতে পারব না। ভাল পাত্র পেয়েছি তাকেই বিয়ে করে নে। না হলে তন্ময়কেই বল দ্রুত বিয়ে করতে।” প্রেমিক ও বাবার ঠিক করা পাত্র নিয়ে টানাপোড়েনে ভুগতে শুরু করেন দেবযানী। শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। তবে এদিন বিকেল পর্যন্ত পুলিশে কোনও অভিযোগ হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
ছবি- মুকলেসুর রহমান
The post বাবার ঠিক করা পাত্র না প্রেমিক, টানাপোড়েনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী কলেজ ছাত্রী appeared first on Sangbad Pratidin.
