shono
Advertisement
Ashoknagar

জরাজীর্ণ ব্রিটিশ আমলের বিমানঘাঁটি-এয়ারফিল্ড, অশোকনগরের ইতিহাস সংরক্ষণে কেন্দ্রকে চিঠি

অশোকনগরের ইতিহাসকে সংরক্ষণে উদ্যোগ নিলেন নেতাজি শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা ড. শতাব্দী বিশ্বাস। পাশে পেয়েছেন কলেজের পড়ুয়া ছাড়াও এলাকার বহু ছাত্রছাত্রীদের।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 07:36 PM Aug 18, 2026Updated: 07:58 PM Aug 18, 2026

কলকাতা থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরে উত্তর ২৪ পরগনার মফস্বল শহর অশোকনগর কল্যাণগড়। যার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের সামরিক বিমান ঘাঁটি ছিল এই অশোকনগরের বুকে। দেশভাগের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এই এলাকা পরিকল্পিত শহরের রূপ নেয়। তবে আজও অতীতের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে এই মফস্বল শহর। এখনও সেখানে রয়েছে বিমান রাখার ঘর, এয়ারফিল্ড, শহিদ বেদি, লাইট হাউস, ইংরেজ আমলের বিরাট জলের ট্যাঙ্ক-আরও কত কী। যার প্রতিটি কোনায় জড়িয়ে ইতিহাসের গল্প। তবে পর্যবেক্ষণের অভাবে ধুঁকছে ইংরেজ জমানার সেই স্থাপত্য। হারাতে বসা অশোকনগরের সেই ইতিহাসকে সংরক্ষণে উদ্যোগ নিলেন নেতাজি শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা ড. শতাব্দী বিশ্বাস। পাশে পেয়েছেন কলেজের পড়ুয়া ছাড়াও এলাকার বহু ছাত্রছাত্রীদের।

Advertisement

ব্রিটিশ আমলের বিমান ঘাঁটি (বামদিকে), নেতাজি শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা ড. শতাব্দী বিশ্বাস (ডানদিকে)।

সময়ের নিয়মে বদলে গিয়েছে সেই অশোকনগর। দেশভাগের পর এই পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি এলাকায় বাস্তুহারা মানুষদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়। প্রথমে এটি 'হাবড়া আরবান কলোনি' নামে পরিচিত ছিল। পরে উত্তর-পূর্ব অংশ 'কল্যাণগড়' এবং দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ 'অশোকনগর' নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে এই অশোকনগর একটা জমজমাট এলাকা। স্কুল-কলেজ, ব্যাঙ্ক-কী নেই! তবে অশোকনগরের বুকে এখনও দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্য। রয়েছে বিমান রাখার ঘর, এয়ারফিল্ডের অবশিষ্টাংশ, অ্যালুমনিয়ামে গোলঘর। এখনও বেশ কিছু পরিবার বাস করে সেই অ্যালুমনিয়ামের ঘরে। যা প্রতিমুহূর্তে মনে করিয়ে দেয় অশোকনগরের ইতিহাস। হরিপুরের নেতাজি শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের বুক চিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহিদ বেদির পর্যবেক্ষণ হলেও হ্যাঙ্গার, এয়ারফিল্ডের দশা বেহাল। তবে অশোকনগরের পড়ুয়ারা চান, তাঁদের প্রাণের শহরের এই ইতিহাস অক্ষত থাকুক, সংরক্ষিত করা হোক। তাই আবেদন নিয়ে তাঁরা এবার কেন্দ্রের দরজায়।

এপ্রসঙ্গে নেতাজি শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা ড. শতাব্দী বিশ্বাস বলেন, "অশোকনগর একটা লিভিং ল্যাবরেটরি। আমার ছাত্ররা এই এলাকা নিয়ে ভীষণ আবেগপ্রবণ। ওরা চায় ইতিহাসের রক্ষণাবেক্ষণ হোক। তাই আমাদের ছেলেমেয়েরা ব্রিটিশ আমলের অশোকনগরে যা স্থাপত্য রয়েছে তার উপর সার্ভে করেছিল। রিপোর্ট তৈরি করে, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে তা অ্যানথ্রোপলিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ায় চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তাঁরা উত্তর দিয়েছে। তারপর সেই চিঠি তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে।" অধ্যক্ষরা কথায়, "আমরা শুধু চাই সরকার রক্ষণাবেক্ষন করুন।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement