shono
Advertisement
Suvendu Adhikari

'ছোট্ট ঘটনা বলা হবে না', সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের তরফে বিরোধিতা নয়, কামদুনি মামলায় বড় বার্তা শুভেন্দুর

তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে কামদুনির 'ধর্ষণ ও খুনে'র ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের কামদুনিতে ২০১৩ সালে কলেজ ছাত্রীর উপর নারকীয় অত্যাচার চলে, পরে তাঁকে খুন করা হয়। তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার সেই ঘটনায় কঠিন পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ।
Published By: Suhrid DasPosted: 01:16 PM Jul 11, 2026Updated: 01:17 PM Jul 11, 2026

তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে কামদুনির 'ধর্ষণ ও খুনে'র ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের কামদুনিতে ২০১৩ সালে কলেজ ছাত্রীর উপর নারকীয় অত্যাচার চলে, পরে তাঁকে খুন করা হয়। তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার সেই ঘটনায় কঠিন পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে অভিযুক্তদের শাস্তি মকুব হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর ফের কামদুনি ফাইলস খুলেছে। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা এখন বিচারাধীন। কামদুনি মামলা নিয়ে এবার বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের আইনজীবী কোনওরকম বিরোধিতা করবেন না। আগের সরকারের আমলের মতো 'ছোট্ট ঘটনা' বলা হবে না, সেই কথাও জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে 'ধর্ষণ ও খুন' করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, শনিবার সকালে সূর্যপুরে যান মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন। ওই নাবালিকার বাড়িতেও গিয়েছিলেন তিনি। গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার। মৃত ইন্দ্রজিতের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হয়েছে। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আরও একবার জিরো টলারেন্সের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি কামদুনি ঘটনা নিয়েও বার্তা দিয়েছেন তিনি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার কামদুনির নির্যাতিতার পরিবারকে আইনজীবী দিয়ে সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, "বারাসত আদালতের রায় কলকাতা হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। কিন্তু এত দিন রাজ‍্য সরকার বিরোধিতা করছিল। এই সরকার নির্যাতিতার পরিবারকে আইনজীবী দিয়ে সহযোগিতা করবে।" রাজ্যের তরফে সুপ্রিম কোর্টে কোনও বিরোধিতা করা হবে না। সেই কথাও জানানো হয়। শুধু তাই নয়, আগের রাজ্য সরকার আদালতে বিরোধিতা করত, সেই অভিযোগও তিনি করেছেন।

রাজ্যের পালাবদলে ফের কামদুনি ফাইলস খুলছে। এই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলা বিচারাধীন। তৃণমূল জমানায় বারাসতের কামদুনির ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বাংলাকে। ২০১৩ সালে কামদুনিতে এক ২০ বছর বয়সী কলেজছাত্রীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুন করা হয়। সেই ঘটনায় প্রবল ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল এলাকায়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেসময় কামদুনি গিয়েছিলেন। বিক্ষোভ-প্রতিবাদ হয়েছিল তাঁর সামনেও। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে মাওবাদীরা আছে, এমনই মন্তব্য করেছিলেন তিনি! টুম্পা ও মৌসুমিকেও পরবর্তীকালে তৃণমূলের রোষানলে একাধিকবার পড়তে হয়েছিল।

২০১৬ সালে নিম্ন আদালত ৩ জন অভিযুক্তকে ফাঁসি ও ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। মামলা যান কলকাতা হাই কোর্টে। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ফাঁসির সাজা মুকুব করে। দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি তিনজনকে বেকসুর মুক্তি দেওয়া হয়। এক অভিযুক্ত মামলা চলাকালীন মারা গিয়েছিলেন। রাজ্যের তরফে ঠিকমতো আদালতে তথ্য দেওয়া হয়নি, পুলিশি তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়। কামদুনির সঠিক বিচার হয়নি বলে দাবি করেন কামদুনির দুই প্রতিবাদী টুম্পা কয়াল ও মৌসুমি কয়াল। সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কামদুনির মৃত ছাত্রীর পরিবার। এবার কামদুনি মামলা নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement