ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল বা এফসিআরএ আইন সংক্রান্ত কোনও জটিলতায় পড়তে হবে না স্বর্ণমন্দির তথা শ্রী হরমন্দির কর্তৃপক্ষকে। অকল্যান্ড সফরে গিয়ে বড়সড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী জানালেন, শ্রী হরমন্দির সাহেব পরিচালিত বিভিন্ন গুরুদ্বারে বিশ্বজুড়ে নিরন্নরা অন্ন পান। তাই তাদের যাতে বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত জটিলতায় যাতে না পড়তে হয়, সেটা নিশ্চিত করবে সরকার।
অকল্যান্ডে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন, "পুরো মানবতাকে সেবা, সাম্যের বার্তা দিয়েছে শ্রী হরমন্দির সাহেব। বিশ্বের সব প্রান্তে গুরুদ্বার সেবার সেন্টার। নিরন্নরা ওখানে অন্ন পান। অসহায়রা আশ্রয় পান। শিখ সম্প্রদায়ের কিছু ভাইবোন আমাকে বলেছিলেন, শ্রী হর মন্দিরের সেবার জন্য এফসিআরএর কিছু সমস্যা হচ্ছে। আমরা সেই সমস্যার দ্রুত সমাধান করে দিয়েছি।"
উল্লেখ্য, মার্চে লোকসভায় পাশ হয়েছে ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল ২০২৬। এই আইনে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থা একবার বিদেশি অনুদান পাওয়া বন্ধ করে দিলে সেই সংস্থার বিদেশি বিনিয়োগ থেকে যা সম্পত্তি রয়েছে, সেগুলি আর ব্যবহার করতে পারবে না। সেগুলি নির্দিষ্ট একটি সংস্থার মারফৎ চলে যাবে কেন্দ্রের হাতে। শুধু তাই নয়, প্রস্তাবিত আইনে বলা আছে, কেন্দ্র চাইলে সব সংস্থাকে বিদেশি বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত টাকা খরচ করার সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, কোনও সংস্থা যদি বিদেশি বিনিয়োগের লাইসেন্স নবীকরণের আবেদন না করে, বা সরকার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাহলে ওই সংস্থার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। এই 'নতুন আইনের আওতায় পড়বে ধর্মীয় সংগঠনগুলিও।
সমস্যা হল দেশের বহু সংখ্যালঘু ধর্মীয় সংগঠন বিদেশ থেকে অনুদান পায়। যার মধ্যে একদিকে যেমন খ্রিষ্টানদের মিশনারিজ অফ চ্যারিটি রয়েছে, মুসলিমদের মার্কাজ রয়েছে, তেমন রয়েছে শিখদের শ্রী হরমন্দিরও। ইতিমধ্যেই মিশনারিজ অফ চ্যারিটির অনুদানের অঙ্ক আতস কাচের তলায়। এমনকী মাস খানেক আগে কলকাতায় এসে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও মিশনারিজ অফ চ্যারিটিতে যান। সেটা পুরোদস্তুর কেন্দ্রের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা হিসাবেই দেখা হচ্ছে। যদিও মিশনারিজ অফ চ্যারিটির প্রতি নরম ভাব এখনও দেখায়নি কেন্দ্র। তবে শ্রী হরমন্দিরকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যতিক্রম হিসাবে দেখছেন। অবশ্য অনেকে এটার নেপথ্যে পাঞ্জাবের নির্বাচনী অঙ্ক দেখছে। সামনেই পাঞ্জাবের নির্বাচন। সে রাজ্যে এবার দাঁত ফোঁটাতে মরিয়া। এমনিতেই পাঞ্জাবের আপ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা কাজ করছে। তার উপর আবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের বিরুদ্ধে গুরু গ্রন্থ সাহিবের অপমানের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মোদি শিখদের মন জয়ের লক্ষ্যেই এফসিআরএ মাস্টারস্ট্রোক দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
