একুশের নির্বাচনের পর জেলায় জেলায় তৃণমূল কর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছে বিজেপি কর্মীরা, এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একাধিক কর্মীকে খুন করা হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে কর্মীদের বাড়ি। রবিবার নন্দীগ্রামের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সাফ জানালেন, "সবকিছুর হিসেব হবে।" কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "চাইলে তৃণমূল কর্মীদের বাড়ির ইট খুলে নিতে পারেন আপনারা। কিন্তু এমন করবেন না, বিজেপি এটা করে না। আমার সব স্মরণে আছে, আমি ছাড়ব না।"
একুশের নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজ্য-রাজনীতি। বিজেপির তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, সর্বত্র তাঁদের কর্মীরা আক্রান্ত-হেনস্তার শিকার। বহু কর্মীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর রবিবার প্রথমবার নন্দীগ্রামে সভা করে তা নিয়েই মুখ খুললেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, "২ বার হারা মুখ্যমন্ত্রী মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য পর্যন্ত দেয়নি।" এরপরই কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "চাইলে তৃণমূল কর্মীদের বাড়ির ইট খুলে নিতে পারেন আপনারা। কিন্তু এমন করবেন না, বিজেপি এটা করে না। আমার সব স্মরণে আছে, আমি ছাড়ব না। সবকিছুর হিসেব হবে।"
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের ভোটে রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। তৃণমূলকে সরিয়ে এবার রাজ্যের রাশ বিজেপির হাতে তুলে দিয়েছে বাংলার মানুষ। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মীদের হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি বারবার কর্মীদের বলেছেন, যেন কেউ আইন হাতে না নেয়। কেউ অশান্তি করলে রাজনীতির রং না দেখে গ্রেপ্তারির কথাও বলেছেন তিনি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরাই রাতারাতি 'জামা পালটে' পুরনো সহযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ করছেন। অর্থাৎ বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের কর্মীরা কোনও অশান্তি করছেন না। এদিন শুভেন্দুও কর্মীদের বুঝিয়ে দিলেন, তাঁদের আইন হাতে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। দলই সব অন্যায়ের হিসেব নেবে।
