রমণী বিশ্বাস, তেহট্ট: দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লীল চ্যাট। ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করল নদিয়ার পলাশিপাড়া থানার পুলিশ। ধৃত প্রধান শিক্ষক অপূর্ব কুমার রায়, কৃষ্ণনগরের নতুন দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা। পলাশিপাড়া থানার সাহেবনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ছাত্রীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। বুধবার তেহট্ট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ওই শিক্ষকের চোদ্দ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয় অভিভাবকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। তারপরে ওই প্রধান শিক্ষক মুচলেকা দিলে ঘেরাও ওঠে। সেই ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে ওই ছাত্রীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওই ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, ওই ছাত্রী প্রাথমিক থেকে সাহেবনগর বিদ্যালয়ে পড়ত। একই জায়গায় প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় হওয়ায় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দশম শ্রেণি পাশ করে সে। ওই স্কুলে বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছে।
[আরও পড়ুন: এবার পুজোয় জেলে পার্থ, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে যাওয়ার সময় কী বললেন প্রাক্তন মন্ত্রী?]
অভিযোগ, ৮ মাস আগে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অপূর্ব কুমার রায় ওই ছাত্রীকে পড়ানোর আছিলায় ভালোবাসার প্রস্তাব দেয়। সেই সাথে নানা রকম কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি মোবাইলে অশ্লীল চ্যাট করেছে বলেও অভিযোগ। এই কথা ভয় পেয়ে ওই ছাত্রী তার বাবা-মাকে বলে। ছাত্রীর কথা শুনে বাবা ওই প্রধান শিক্ষককে নিষেধ করে। ওই ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, ওই প্রধান শিক্ষকের বাড়ি কৃষ্ণনগর হওয়ায় পলাশিপাড়া দিয়ে তাঁকে যাতায়াত করতে হয়। সেই সুযোগে সে পলাশিপাড়ায় আমার ভাড়া বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করে। ছাত্রীর মা দেখে ফেললে ওই শিক্ষক ওই জায়গা থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনা নিয়ে কোন অভিযোগ তখন করেনি ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন।
বেশ কয়েকদিন আগে প্রধান শিক্ষক ও ছাত্রীর চ্যাট কয়েকজনের মোবাইলে চলে যায়। এরপর গ্রামবাসীরা সোমবার মাইকিং করে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘোষণা করেন। সেই মতো মঙ্গলবার স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করেন অভিভাবক-সহ গ্রামবাসীরা। এই ঘটনার পর ওই ছাত্রীর বাবা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ওই প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
