পলাশ পাত্র, তেহট্ট: বাড়ি থাকলে বাবা মা জোর করে বিয়ে দিয়ে দেবে। আমি পড়াশোনা করতে চাই। বাড়ি ফিরতে চাই না। এক নাবালিকা স্কুল ছাত্রীর করুণ এই আবেদনে সাড়া দেন বিডিও। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ছাত্রীটির বাড়ি ও স্কুলে যান তিনি। তবে সেখানে ছাত্রীটির পরিবারের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।
[জিনস ও মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা হরিয়ানার পঞ্চায়েতের[
বুধবার বিকেলে কালীগঞ্জ থানার মীরা গার্লস স্কুলের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। যদিও পরে কালীগঞ্জ-এর বিডিও নাজির হোসেন ওই নাবালিকা স্কুল ছাত্রীকে কৃষ্ণনগর হোমে রাখার ব্যবস্থা করেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, কালীগঞ্জ থানার হাজরাপোতায় বাড়ি ছাত্রীটির। এই বছরই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে সে। ওই পড়ুয়া যথেষ্ট মেধাবী বলে জানিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পুষ্পা বিশ্বাস। তিনি বলেন, “ওই ছাত্রীর বয়স ষোলো বছর। বাবার চায়ের দোকান রয়েছে। যেখানে বিয়ের ঠিক হয়েছে সে ছেলেটি থাকে আরবে। ও এখন বিয়ে করতে রাজি নয়। ও পড়তে চায়। এদিন আমার কাছে এই নিয়ে আবেদন করে। আমি তখন বিডিওকে বিষয়টি জানাই। কিন্তু স্কুল থেকে ছাত্রীটিকে কিছুতেই নিয়ে যেতে দিচ্ছিল না বাড়ির লোকজন।”
খবর পাওয়ার পরই বিডিও অফিস থেকে অফিসাররা যায় স্কুলে। সেখানে পরিস্থিতি খারাপ হলে বিডিওকে বিষয়টি জানানো হয়। বিডিও নাজির হোসেন ঘটনাস্থলে এলে ছাত্রীর বাবা, মা থেকে পরিবারের লোকজন তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায়। জানা গিয়েছে, ছাত্রীটির বিয়েও ঠিক হয়েছে ২৫ এপ্রিল। এ অবস্থায় সে বিয়েতে অসম্মত হওয়ায় তাকে গালাগাল থেকে শুরু করে মারধরও করা হয়। ঘটনা প্রসঙ্গে বিডিও নাজির হোসেন বলেন, “ছাত্রীটি নাবালিকা। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী চালু করেছে সরকার। আঠারোর নিচে কোন মেয়েকে বিয়ে দেওয়া যাবে না, আইন রয়েছে। বাড়ির লোকজন না বুঝে বিয়ে দিতে চাইছে আরবে কাজ করা একজনের সঙ্গে। ওর জীবন কষ্টকর হয়ে উঠেছে।” ইতিমধ্যে মানসিকভাবে চাপে থাকা ছাত্রীটি বাড়িতে থাকতে চাইছে না। তাঁর অভিযোগ, বাড়ি গেলে বাবা জোর করে বিয়ে দিয়ে দেবে। তাই ছাত্রীটির নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাকে কৃষ্ণনগর হোমে পাঠানো হয়েছে ।
[বক্তব্যে অনড় থেকে সমালোচকদের একহাত নিলেন বিপ্লব দেব]
The post বিয়ের ভয়ে বাড়ি ফিরতে নারাজ নাবালিকা, বিক্ষোভের মুখে বিডিও appeared first on Sangbad Pratidin.
