shono
Advertisement
Plasma

আইনে প্লাজমা বিক্রির বিধানই নেই! কাঠগড়ায় অবৈজ্ঞানিক 'ক্যাম্পখাট'-এ রক্তদান

ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ব্লাড ডোনার অর্গানাইজেশনের জাতীয় সভাপতি বিশ্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের এই বৈঠকের সিদ্ধান্তই এখনও সর্বস্তরে গৃহীত। অর্থাৎ কোনওভাবে প্লাজমা বিক্রি করা যায় না।
Published By: Jaba SenPosted: 02:33 PM Aug 19, 2026Updated: 02:33 PM Aug 19, 2026

প্লাজমা বিক্রি করার বিধানই নেই আইনে! ২০১৫ সালে জাতীয় রক্ত সঞ্চালন পরিষদ (ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্স ফিউশন কাউন্সিল ) বৈঠকে অনুমোদন দেয়, প্রতি লিটার প্লাজমার বিনিময় মূল্য (বিক্রয়মূল্য নয়) ১৬০০ টাকা। প্লাজমার বিনিময়ে প্রাপ্ত ওই অর্থ ব্লাডব্যাঙ্ক কীভাবে ব্যবহার হবে তা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রক্ত সঞ্চালন পরিষদ ঠিক করবে। মূলত তা দিয়ে গরিব রোগীদের চিকিৎসার জন্য সমমূল্যের প্লাজমা-জাত ওষুধ কেনা যেতে পারে।

Advertisement

ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ব্লাড ডোনার অর্গানাইজেশনের জাতীয় সভাপতি বিশ্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের এই বৈঠকের সিদ্ধান্তই এখনও সর্বস্তরে গৃহীত। অর্থাৎ কোনওভাবে প্লাজমা বিক্রি করা যায় না। ওই টাকা দিয়ে কেনা যেতে পারে ব্লাড ব্যাঙ্কের সক্ষমতা বাড়ানোর উপকরণ। যেমন? রক্তদান করার জন্য বিশেষ খাট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বাস্থ্যকর্তা জানিয়েছেন, সেটাই তো ছিল না রক্তদান শিবিরগুলোয়। বিগত দেড় দশক ধরে দায়সারা একাধিক রক্তদান শিবিরে নিচু ক্যাম্পখাটে শুয়েই রক্ত দিয়েছেন রক্তদাতারা। যাকে চূড়ান্ত অবৈজ্ঞানিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়ম অনুযায়ী যিনি রক্ত দিচ্ছেন তাঁর থেকে ব্লাড ব্যাগের দূরত্ব হওয়া উচিত দেড় থেকে পৌনে দু ফুট। কিন্তু নিচু ক্যাম্পখাটই তো মাটি থেকে দেড়ফুট উচু। ফলে রক্তের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা যায় মাটিতে। এদিকে রক্তদানের বিশেষ খাট দেখা যায় ব্লাডব্যাঙ্কে। কিন্তু সেখানে কতজনই বা রক্ত দিতে যান।

ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের গভর্নিং বডির সদস্য বিশ্বরূপের কথায়, "যেখানে সিংহভাগ মানুষ রক্ত দেয় সেই ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পেই বরং সঠিক খাট থাকা উচিত।" তাঁর আবেদন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে, "প্লাজমা বিক্রি-সহ এই নিচু অবৈজ্ঞানিক ক্যাম্প খাটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক।" স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ব্লাডব্যাঙ্কগুলোর কাছে একাধিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। তদন্ত জারি রয়েছে। তথ্য দেওয়ার জন্য কিছু ব্লাড ব্যাঙ্ক সময় চেয়েছে। সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তথ্য দিতেই হবে।

বিগত দেড় দশকে রক্তদান নিয়ে বহু ফাঁকফোকর ছিল তা জানিয়েছেন রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘ দিন যুক্ত ডি আশিসও। তিনি জানিয়েছেন, রক্তদান করার পর অনেক রক্তদান শিবিরের আয়োজক বিরিয়ানি দিয়েছেন রক্তদাতাদের। এটাও চূড়ান্ত অবৈজ্ঞানিক। মূলত ফলের রস, কলা, ডিমসিদ্ধ জাতীয় সুষম আহার দেওয়া যায়। কিন্তু বিরিয়ানি চিলি চিকেন খাওয়ানোর ঘটনাও ঘটেছে বিগত দেড় দশকে। 'মনিটরিং'-এর অভাবেই রক্তদান শিবিরের আয়োজকরা যেমন তেমন ভাবে রক্ত নিত।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement