নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ইরানের সঙ্গে সবরকম বাণিজ্যিক সম্পর্কে দাঁড়ি টানল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE)। দেশটির অভিযোগ, পারস্য উপসাগরে তাদের জলসীমায় জাহাজ লক্ষ্য করে দুটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। যার জেরেই এই পদক্ষেপ। যদিও আমিরশাহীর এই অভিযোগ খারিজ করেছে ইরান। তাদের দাবি, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে আমিরশাহী।
গত মঙ্গলবার আমিরশাহীর বিদেশমন্ত্রকের তরফে অভিযোগ করা হয়, সমুদ্রপথে পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে জাহাজ লক্ষ্য করে পর পর ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। যার একটি আমিরশাহীর সমুদ্রসীমার ভিতরে ও অন্যটি বাইরে গিয়ে পড়ে। এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, এহেন আচরণ দেশের নিরাপত্তার জন্য বড়সড় হুমকি। ইরানের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের পালটা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সঙ্গে সবরকম বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমিরশাহী। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই নির্দেশ বহাল থাকবে।
ইরান জানিয়েছে, 'এই ধরনের পদক্ষেপ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী। এই ঘটনা প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে।'
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তোলা যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করেছে বিবৃতি দিয়েছে ইরান। দেশটির বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, 'এই ধরনের পদক্ষেপ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী। এই ঘটনা প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে। তেহরানের বিরুদ্ধে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকা উচিত আঞ্চলিক দেশগুলির।' তবে ওয়াকিবহাল মহলের মত, এই ঘটনায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ফের চরমে উঠল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরশাহীতে অন্তত ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনও দেশের তুলনায় ইরানের হাতে সবচেয়ে বেশি মার সহ্য করতে হয়েছে আমিরশাহীকে। গত জুন মাসে এক সমঝোতা চুক্তির পর আমিরশাহীর উপর হামলা বন্ধ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তাপ বেড়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। এদিকে বাণিজ্যের জন্য এই জলপথের উপরেই নির্ভরশীল আমিরশাহী-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বাকি দেশ।
