সংগ্রাম সিংহ রায়, শিলিগুড়ি: চোর-ডাকাত ছেড়ে শেষপর্যন্ত ছাগল! শুনতে অবাক লাগলেও কেবলমাত্র এই একটি জন্ততেই নাজেহাল নকশালবাড়ি থানার পুলিশ কর্মীরা। প্রায়ই সকাল থেকে প্রতিবেশীর ছাগলের বিরুদ্ধে হাজারও অভিযোগ নিয়ে থানায় এসে হত্যে দিচ্ছেন নকশালবাড়ির মণিরাম এলাকার বাসিন্দা রহিম মিয়া। তাঁর দাবি, ছাগলের মালিককে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। নইলে তিনি রোজ থানায় আসবেন। ফলে বিপাকে পুলিশ। থানার ওসি তপন পাল বুঝে উঠতে পারছেন না কী করবেন!
[মন্ত্রী ছবি তুলবেন, তাই ২ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হল ৩০০ গর্ভবতীকে]
জানা গিয়েছে, পাশের বাড়ির বাসিন্দা মকসুদ আলির ছাগল প্রায়দিনই রহিম মিঞার খেতে ঢুকে পড়ে এবং উৎপাত চালায়। দীর্ঘদিন ধরে সেটা সহ্য করে আসছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু কাহাতক আর সহ্য করা যায়। শেষপর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। অগত্যা জমা পড়ল অভিযোগ। এরপরই ছাগলের মালিক মকসুদ আলির বাড়ির লোককে ডেকে ধমক দেয় পুলিশ। যদিও মকসুদের দাবি, “আমার ছাগল কারও বাড়িতে যায় না। সে খুবই বাধ্য।” কিন্তু অভিযোগকারী তা মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না হলে তিনি ওই ছাগল ধরে খোঁয়াড়ে দেবেন। আর এটা শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছেন ছাগলের মালিকের মেয়ে রুবিনা। দেওয়া হয়েছে পালটা শাসানিও।
[ইন্টারন্যাশনাল স্যান্ড ফেস্টিভ্যালে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত সুদর্শন পট্টনায়েক]
রহিম মিয়ার অভিযোগ, প্রতিবেশীর ছাগল ঢুকে কখনও তাঁর খেতের বাঁধাকপি, কখনও আলুগাছ খেয়ে মুড়িয়ে দিচ্ছে। কখনও আবার নিজের হাতে ফলানো সাধের পুঁইশাকও খেয়ে ফেলছে। দেড় বিঘা জমিতে ঢুকে যখন যা পাচ্ছে তাই খাচ্ছে পরের ছাগলে। এটাই গা-জ্বালার কারণ রহিমের। একাধিকবার ছাগলের মালিককে বাড়ি বয়ে নালিশ জানিয়ে এলেও, কাজ হয়নি। অগত্যা ছাগল ধরে সোজা থানায় চলে আসেন রহিম। কারও কথা শুনতে নারাজ তিনি। এমনকী পুলিশকর্মীদের খতিয়ে দেখার আশ্বাসেও কাজ হচ্ছে না। মাঝে মধ্যেই থানায় হানা দিচ্ছেন ওই ব্যক্তি। কান ঝালাপালা নকশালবাড়ি থানার পুলিশকর্মীদের। অবস্থা এমনই, অভিযোগকারীকে আসতে দেখলেই, আতঙ্ক তাড়া করছে থানার কর্মীদের।
[পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও বিয়ে, থানায় ফুলশয্যা নবদম্পতির]
The post চোর-ডাকাত নয়, এক ছাগলের কীর্তিতেই জেরবার পুলিশকর্মীরা appeared first on Sangbad Pratidin.
