সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পছন্দের প্রার্থীকে টিকিট দিয়েই নিজের বিপদ ডেকে এনেছেন ফলতির অঞ্চল সভাপতি। সইফার রহমান খুনের তদন্তে নেমে উঠে আসছে পরস্পর বিরোধী তথ্য। একবার চোখ রাখি সেই ষড়যন্ত্রের জাদুবাক্সে।
কী বলছে জাদুবাক্স ?
চলতি পঞ্চায়েত নির্বাচনে এলাকার চারজন প্রার্থী বাছাইয়ের ভার ছিল অঞ্চল সভাপতি সইফার রহমানের কাঁধে। সেইমতো দলের পুরনো দু’জনকে প্রার্থী করার পাশাপাশি স্থানীয় দুই সিপিএম সমর্থককেও তৃণমূলের টিকিট দিয়েছিলেন তিনি। এদিকে দলে নেই যোগ্য লোকের অভাব (বিক্ষুব্ধ কর্মী সমর্থকদের অন্তত তাই ধারণা)। দলের লোক থাকতে বিরোধী সিপিএম সমর্থককে প্রার্থী দেওয়া? এই ঘটনা মেনে নিতে পারেনি স্থানীয় দলীয় নেতৃত্বের একাংশ। কিন্তু অঞ্চল সভাপতি। ভোট যখন ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে, তখন তো তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করা যায় না। তাহলে এলাকায় দলের যেমন ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। তেমনই রাজ্য নেতৃত্বের কোপে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সবদিক বিবেচনা করেই নতুন ছক কষা হল, ‘যাতে সাপও না মরে লাঠিও না ভাঙে।’ সরাসরি আক্রমণে না গিয়ে সাজানো হয়েছিল ষড়যন্ত্রের ঘুঁটি। জঙ্গিরা যেমন বাচ্চাদের মানব বোমা বানিয়ে ছেড়ে দেয়। অনেক সেইরকম পদ্ধতি। এখানে আততায়ী মৃত রজব আলি সেই মানব বোমাই। যার কারণে বিজয় মিছিলের আনন্দ ভাসল রক্তের পুকুরে। নাহঃ ছোটখাটো রজব আলি প্রবল প্রতাপে থাকা সইফার রহমানকে আচমকাই খুন করবে, এতটাও হজম হওয়ার নয়। ফলতি গ্রামের বাসিন্দা রজব আলির তেমন কোনও রাজনৈতিক সংসর্গও ছিল না। তাহলে, সে কী করছিল তৃণমূলের বিজয় মিছিলে? তাকে কি আনানো হয়েছিল? জাদুবাক্সের অন্তত তেমনটাই দাবি। এমনিতে তো সইফার রহমানের সঙ্গে তেমন কোনও ব্যক্তি শত্রুতা কারওর ছিল না। তবে রাজনীতিতে যখন আছেন তখন রাজনৈতিক শত্রু থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু মজার বিষয় হল, যেখানে মনোনয়নের পরেই বিজয় মিছিল হয় সেখানে বিরোধীদের অস্তিত্ব নিয়েই সন্দেহ রয়েছে। খড়কুটো আঁকড়ে পড়ে থাকা মানুষ তো আগে বাঁচবে, তারপর না হয় মরণ কামড়ের ভাবনা। উঁহু, এই জমানায় কেউ আর অজাতশত্রু হন না। কেমন যেন পোড়া পোড়া গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। হ্যাঁ তো, দলীয় কোন্দল। কেনই বা হবে না? পাড়ার লোক ছেড়ে বেপাড়ায় টিকিট বিলি। হজম হয় কখনও? কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করে কে ক্ষুদিরাম হবেন, তার থেকে রজব আলিই সই। তাইতো তাকে দিয়ে কাজ হাসিল করা। কী! বিজয় মিছিলে কর্মী সমর্থকদের মাঝখানে অঞ্চল সভাপতি খুন। উত্তেজিত জনতার হাত রজব তো পালিয়ে যেতে পারে না। তাকে তো জেনেবুঝেই বলির পাঁঠা করা হয়েছে। এবার যজ্ঞা আহুতি না দিলে তো সমস্ত প্রচেষ্টাই মাঠে মারা যায়। তাই আনন্দে গা ভাসালেও রজব আলির থেকে দৃষ্টি ঘোরেনি। সইফার রহমান লুটিয়ে পড়তেই উন্মত্ত জনতার কবলে চলে যায় রজব। বাকিটা সবার জানা। মারাকাটারি থার্ড ডিগ্রির বহরে সোজা স্বর্গে পাঠিয়ে দেওয়া গিয়েছে। একসঙ্গে দুই হিসেব চুকলো। অপরাধ ও সংঘটিত, সঙ্গে অপরাধের প্রমাণও লোপাট।
ক্ষমতার আড়ালে চলা এই অকথিত গল্পই যেন আজ শাসনের আকাশে বাতাসে। তবে সবার কি সেদিকে তাকানোর জো আছে? জাদুবাক্স না হয় এটুকু দায়িত্ব সারলই, ক্ষতি কি। বুধবার সন্ধ্যাতেই বিজয় মিছিলে খুন হয়েছেন শাসন এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সইফার রহমান। মিছিলেই ছিল আততায়ী রজব আলি। তাকেও পিটিয়ে মেরে ফেলে উত্তেজিত জনতা। তৃণমূলের তরফে অভিযোগের তির বিরোধীদের দিকে।
The post বিক্ষুব্ধ সিপিএম কর্মীকে টিকিট দিয়েই টার্গেট হলেন শাসনের সইফার রহমান! appeared first on Sangbad Pratidin.
