অটো ও টোটোচালকদের থেকে নিয়মিত টাকা তোলার অভিযোগ। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের শ্রমিক নেতা তারক দে (TMC Leader Arrest)। শুধু তাই নয়, এদিন গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন স্থানীয়দের একাংশ। ঘটনা নিয়ে রীতিমতো হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া এলাকায়। অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
পালাবদলের পর রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে গ্রেপ্তার হচ্ছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়কদের ঘনিষ্ঠরাও একাধিক অভিযোগে ধরা পড়ছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন হাবড়ার তৃণমূলের শ্রমিক নেতা তারক দে। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অটো ও টোটো চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা তুলতেন তিনি।
অভিযোগ, চালকদের ভয় দেখিয়ে ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে নিয়মিত টাকা তোলা হত। কোনও চালক আপত্তি জানালে হুমকির মুখেও পড়তে হত! হাবড়া উৎসবের নাম করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে তারকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার ধৃতকে বারাসত আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবড়ার অরবিন্দ রোডের বাসিন্দা তারক প্রাক্তন বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ বলেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন। সেই সূত্রেই শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব পান তিনি। অভিযোগ, হাবড়া-ফুলতলা রুট সহ শহরের একাধিক অটো ও টোটো রুট কার্যত নিয়ন্ত্রণ করতেন তারক। তাঁর নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৩৭টি অটো ও টোটো চলত বলেও দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ, চালকদের ভয় দেখিয়ে ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে নিয়মিত টাকা তোলা হত। কোনও চালক আপত্তি জানালে হুমকির মুখেও পড়তে হত! হাবড়া উৎসবের নাম করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে তারকের বিরুদ্ধে। গত শনিবার ফুলতলা এলাকার এক টোটোচালক হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সোমবার গভীর রাতে টাকি রোড সংলগ্ন বিবেকানন্দ পল্লি এলাকা থেকে তারককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিন ধৃতকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় থানার সামনে জড়ো হয়ে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন স্থানীয়দের একাংশ। তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ সমাদ্দার বলেন, "যারা দলকে ব্যবহার করে অন্যায় করেছেন এবং সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করেছেন, পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিচ্ছে।"
