shono
Advertisement
Durgapur

দুর্ঘটনায় পুত্র হারিয়ে ৩ লক্ষ পেয়েছিলেন গরিব মা-বাবা, দেড় লক্ষ হাতাল তৃণমূলের নেতারা!

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালে, তৃণমূল আমলে। বুদবুদ গ্রামের বছর তরুণ ১৮-র রানা বাউরি টাইলসের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। মৃতের পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন বাড়ির মালিক।
Published By: Subhankar PatraPosted: 07:28 PM May 16, 2026Updated: 07:53 PM May 16, 2026

তরুণের মৃত্যুতেও কাটমানি! আর্থিক সাহায্যেও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। দুর্গাপুরে টাইলসের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান এক তরুণ। বাড়ির মালিক ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেন। কিন্তু মৃত রানা বাউরির পরিবারের অভিযোগ তাঁরা দেড় লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেয়েছেন। বাকি টাকা ফেরতের দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ পরিবারের।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালে, তৃণমূল আমলে। বুদবুদ গ্রামের বছর তরুণ ১৮-র রানা বাউরি টাইলসের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। মৃতের পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন বাড়ির মালিক। পরিবারের দাবি, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাত্র দেড় লক্ষ টাকা পৌঁছয়। কিছুদিন আগে মৃত যুবকের বাবা চন্দন বাউরি ওই বাড়ি মালিকের কাছে বাকি টাকা চাইতে যান। কিন্তু লাল বাহাদুর ঠাকুর জানিয়ে দেন ৩ লক্ষ টাকাই তিনি স্থানীয় তৃণমূল নেতা বুদবুদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রুদ্রপ্রসাদ ওরফে মনা কুন্ডু-সহ তৃণমূলের কয়েকজন নেতার হাতে তুলে দিয়েছেন।

অভিযুক্তদের কাছে বারবার টাকা ফেরতের দাবি জানান মৃতের বাবা। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। অবশেষে বিজেপি কর্মী ও বাড়ির মালিককে সঙ্গে নিয়ে মৃতের আত্মীয় পরিজনরা পৌঁছে যান বুদবুদ থানায়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বাকি টাকা ফেরতের দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।

মৃত যুবকের বাবা চন্দন বাউরীর অভিযোগ, "আমার ছেলে পড়াশোনার খরচ চালাত কাজ করত। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। বাড়ির মালিক ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। দেড় লক্ষ টাকা ব্যাংকে এসেছে, কিন্তু বাকি দেড় লক্ষ টাকা এলাকার তৃণমূল নেতা তথা বুদবুদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রুদ্র প্রসাদ কুন্ডু, রানা চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ দে ও অভিজিৎ কোণার নিয়ে নিয়েছে। টাকা চাইতে গেলে কোনও উত্তর দেয়নি। তাই আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।"

বাড়ির মালিক লাল বাহাদুর ঠাকুর জানিয়েছেন, "তরুণের মৃত্যুর পর তৃণমূল নেতারা পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। আমার দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। জোর করে ধাপে ধাপে তিন লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। দেড় লক্ষ টাকা মৃত যুবকের পরিবারের একাউন্টে পাঠিয়েছিল। বাকি টাকা তৃণমূলের নেতারা নিয়ে নেয়। আমাকে হুমকি দিয়ে বলা হয় এই দেড় লক্ষ টাকার কথা যেন কেউ জানতে না পারে।" ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এলাকায়। উল্লেখ্য, বুদবুদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রুদ্রপ্রসাদ কুন্ডু ওরফে মনা কুণ্ডু  কয়েকদিন আগেই তোলাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement