shono
Advertisement
TMC

পক্ষে দাঁড়াল না কোনও আইনজীবী, পুলিশ হেফাজতে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা

পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় স্বঘোষিত 'পুষ্পা' জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবি পুলিশ হেফাজতে। শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ। আদালতে তুললেন তাঁর পক্ষে সওয়াল করার জন্য কোনও আইনজীবীই রাজি হননি।
Published By: Suhrid DasPosted: 09:17 AM Jun 21, 2026Updated: 09:18 AM Jun 21, 2026

পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় স্বঘোষিত 'পুষ্পা' জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবি পুলিশ হেফাজতে। শনিবার  তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ। আদালতে তুললেন তাঁর পক্ষে সওয়াল করার জন্য কোনও আইনজীবীই রাজি হননি। আদালত ধৃত রেজিনাকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার আদালতে হাজির করানো হয়েছিল তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক জাহাঙ্গির খানকেও। তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পুষ্পার স্ত্রী রেজিনা শনিবার ধরা পড়তেই ডায়মন্ড হারবার এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ধরা পড়ে।

Advertisement

শেষপর্যন্ত পুলিশের জালে বন্দি ফলতার স্বঘোষিত 'পুষ্পা' জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবি ওরফে সারিকা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি ও বিষ্ণুপুর থানার সীমানা লাগোয়া জুলপিয়া থেকে শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। বেশ কিছুদিন নিখোঁজ থাকার পর গাড়িতে রেজিনা বিবি পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। গ্রেপ্তারের পর এদিন রেজিনাকে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমে উস্তি থানায় এনে রাখা হয়। পরে তাঁকে ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক আরিফ আহমেদ তিনদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। ওই মহিলার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন ছাড়াও বেআইনি জমায়েত, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলার ছক করে জাহাঙ্গিরকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা, পুলিশের গাড়ির উপর আক্রমণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা বিবি ফলতার শতলকলসায় বেআইনি জমায়েত করে স্বামীকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল বলে অভিযোগ পুলিশের। 

উস্তি ও বিষ্ণুপুর থানার সীমানা লাগোয়া জুলপিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। বেশ কিছুদিন নিখোঁজ থাকার পর গাড়িতে রেজিনা বিবি পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। গ্রেপ্তারের পর রেজিনাকে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমে উস্তি থানায় এনে রাখা হয়।

জাহাঙ্গিরের স্ত্রীকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, রাজেশ হোসেন খান বলে কাউকে তিনি চেনেন কি না। উত্তরে রেজিনা বিবি বলেন, তিনি চেনেন না। এর পর বিচারক তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁর পক্ষে কোনও উকিলবাবু আছেন কি না। উত্তরে রেজিনা বলেন, 'না, নেই'। জাহাঙ্গিরের মতো তাঁর স্ত্রীর পক্ষেও এদিন আদালতের কোনও আইনজীবীই সওয়াল করেননি। তবে শেষপর্যন্ত সরকারি লিগ্যাল এইডের এক আইনজীবী তাঁর পক্ষে সওয়াল করেন। শুনানি শেষে রেজিনার জামিনের আবেদন খারিজ করে বিচারক তাঁকে পুলিশ হেফাজতে পাঠান।

এদিকে, রেজিনাকে আদালতে নিয়ে আসার মাত্র কিছুক্ষণ আগেই ছ'দিনের পুলিশ হেফাজত শেষে জাহাঙ্গির খানকেও ডায়মন্ডহারবার এসিজেএম আদালতে নিয়ে আসা হয়। বিচারক আরিফ আহমেদ তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। আগামী ৪ জুলাই পরবর্তী শুনানি। তবে একুশের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের মামলার সঙ্গে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে আরও তিনটি পৃথক মামলা যুক্ত করেছে পুলিশ। সে কারণেই জেল হেফাজত চলাকালীনই জাহাঙ্গিরকে 'শোন অ্যারেস্ট' দেখিয়ে ফের গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এনিয়ে ফলতার বিজেপি বিধায়ক তথা ডায়মন্ডহারবার আদালতের আইনজীবী দেবাংশু পাণ্ডা বলেন, "ফলতায় এখন জাহাঙ্গিরের শাসন নয়, আইনের শাসন চলছে। বর্তমান রাজ্য সরকারের এখন জিরো টলারেন্স নীতি। সুতরাং অপরাধ করে কেউ ছাড় পেয়ে যাবে যদি ভেবে থাকে, সে ভুল ভেবেছে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement