shono
Advertisement
TMC

'নব্য তৃণমূলে'র উত্থানে ৫ জেলায় লন্ডভন্ড ঘাসফুল! কে কোন দিকে গেলেন?

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ১০ তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে আটজনই ঋতব্রত শিবিরের পাশে। কেউ বৈঠকে উপস্থিত থেকে, কেউ আবার আগাম সই করে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
Published By: Subhankar PatraPosted: 02:29 PM Jun 04, 2026Updated: 06:29 PM Jun 04, 2026

রাজ্যে পরিবর্তনের পর বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে ভাঙন ও পুনর্গঠনের জল্পনা ক্রমে তীব্র হচ্ছে। 'নতুন তৃণমূল' নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হওয়া আলোচনার আবহে দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া ও নদিয়ার একাধিক বিধায়কের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যদিও অধিকাংশ বিধায়কই প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, তাঁরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতিই আস্থাশীল।

Advertisement

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোটের ফল প্রকাশের পর বিরোধীদের হাতে চলে যায় জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্র। এর মধ্যেই তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বিধায়ক 'নতুন তৃণমূল'-এর নাম লিখিয়েছেন। ক্যানিংয়ের বিধায়ক পরেশ রামদাস অভিযোগ করেন, দলের উচ্চ নেতৃত্বের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি দলের অধিকাংশ বিধায়কের অবস্থানের সঙ্গেই রয়েছেন। তবে বারুইপুর পশ্চিমের বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীর জানা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা দলের আদর্শ মেনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছেন। বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের দলে রয়েছেন ডায়মন্ডহারবার ও মথুরাপুর লোকসভার বেশিরভাগই। তবে প্রায় সবাই জানিয়েছেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন।

ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদার বলেন, "এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই ৫৮ জন বিধায়কের তালিকায় সই করেছি। শান্তিরক্ষার স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনাও হবে বলে আমাকে বলা হয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমার কোনও ক্ষোভ নেই। তাঁর সঙ্গেই আছি।” বিক্ষুব্ধ বিধায়কের তালিকায় স্বাক্ষর করেছেন পাথরপ্রতিমার প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক সমীর জানা। তবে কী কারণে এই স্বাক্ষর তিনি করেছেন তা জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। মহেশতলা বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক শুভাশিস দাস বলেন, "নতুন তৃণমূল, পুরনো তৃণমূল বলে কিছু নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি আমি তৃণমূলেই আছি।”

অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ১০ তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে আটজনই ঋতব্রত শিবিরের পাশে। কেউ বৈঠকে উপস্থিত থেকে, কেউ আবার আগাম সই করে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। অনুপস্থিত ছিলেন শুধু আমডাঙার কাশেম সিদ্দিকী ও কামারহাটির মদন মিত্র। এদিন বৈঠকে ছিলেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষ, বাদুড়িয়ার বুরহান উল মুকাদ্দিন লিটন, বসিরহাট দক্ষিণের সুরজিৎ মিত্র এবং মিনাখার উষারানি মণ্ডল। দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশ এলাকায় না থাকায় উপস্থিত থাকতে না পারলেও আগেই সিদ্ধান্তে সই করেছেন বলে জানা গিয়েছে। স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল, হাড়োয়ার আব্দুল মতিন এবং বসিরহাট উত্তরের তৌসিফুর রহমানও একই অবস্থান নিয়েছেন।

হাওড়া জেলা থেকে তৃণমূল পেয়েছে নয়জন বিধায়ক। এরমধ্যে ঋতব্রত-সহ ছয়জন শিবির বদল করলেন। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ হাওড়ার বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরি দিল্লি গিয়েছেন। খুব শীঘ্রই তিনি রাজ্যে ফিরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগ দেবেন। এই প্রসঙ্গে নন্দিতা বুধবার দিল্লি থেকে জানান, "ব্যক্তিগত কাজে দিল্লি এসেছি। রাজ্যে ফিরে আমি আমার সিদ্ধান্তের কথা জানাব।” তবে তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলেন না উলুবেড়িয়া দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক পুলক রায়। তিনি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী। আমি তাঁর নেতৃত্বেই দল করেছি, এখনও করছি, আগামীদিনেও করবো। তৃণমূলের সঙ্গেই আছি।"

কোন দিকে তৃণমূলে নদিয়ার বিধায়করা। এই প্রশ্নে স্পষ্ট উত্তর পাওয়া গেল না। নদিয়ার তিনজন তৃণমূল বিধায়কের অবস্থান জানার চেষ্টা করা হলে একমাত্র পলাশিপাড়ার বিধায়ক রুকবানুর রহমানের সঙ্গেই যোগাযোগ সম্ভব হয়। তিনি জানান, "আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলাম, এখনও আছি।" তবে জেলার অন্য দুই বিধায়ক-চাপড়ার জেবের শেখ এবং কালীগঞ্জের আলিফা আহমেদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রুকবানুর রহমান কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement